ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

রূপগঞ্জে ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের মানববন্ধন


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৪ মে, ২০২৬ সময় : ৭:৫০ পিএম

রূপগঞ্জ( নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
 লুটেরা এস আলমের প্ররোচনায় ইসলামী ব্যাংকের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ, গ্রাহক হয়রানি এবং অর্থ পাচার বন্ধের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ভুলতা(গাউছিয়া) এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে  মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। গতকাল রোববার(২৪ মে) সকালে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের আস্থা, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে মো. ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল করা প্রয়োজন। ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে এবং ব্যাংকের কার্যক্রমে ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ বন্ধ করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানকে ‘জোরপূর্বক পদচ্যুত’ করা যাবে না এবং ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের যেকোনো ‘পাঁয়তারা’ বন্ধ করতে হবে। সাধারণ আমানতকারী এবং দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি বিষয়ে কথা বলতে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এ দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের ওপর, বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে বড় রিটেইল ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ’-এর ওপর যে নগ্ন থাবা ও লুটপাট চালানো হয়েছিল, তা আমাদের সবার জানা। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের অর্থনীতি যখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, ব্যাংকগুলো যখন গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে—ঠিক তখনই আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ইসলামী ব্যাংকিং খাতের ওপর আবারও নতুন করে এক ধরনের অশুভ আঁতাত ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। একজন সাধারণ গ্রাহক হিসেবে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের প্রশ্ন আমরা যদি রক্তঘাম জরা কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে রেখে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে না পারি, আমাদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে যদি সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

এস আলম গ্রুপের মতো অসাধু চক্র যেভাবে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ব্যাংকগুলোকে প্রায় দেউলিয়া করে দিয়েছিল, তার ক্ষত এখনো শুকায়নি। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং সেক্টরে নতুন কোনো বিশৃঙ্খলা বা নগ্ন থাবা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। এই সংকটময় মুহূর্তে আমরা বর্তমান সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—ইসলামী ব্যাংকের পেশাদার ও যোগ্য নেতৃত্বকে যেন রাজনৈতিক বা অন্য কোনো সংকীর্ণ উদ্দেশ্যে বলির পাঁঠা বানানো না হয়।

ইসলামী ব্যাংক যেন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, ব্যাংকিং নিয়মনীতি ও নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে পরিচালিত হতে পারে, তার সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ব্যাংকের ভেতরের বা বাইরের কোনো অশুভ চক্রের চক্রান্তে যদি সাধারণ গ্রাহকের আমানত আবারও ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে সচেতন জনগণ ঘরে বসে থাকবে না। ইসলামী ব্যাংকের পবিত্রতা রক্ষা করতে এবং সাধারণ মানুষের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সাধারণ গ্রাহক ও দেশের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হব।

এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মহিউদ্দিন ভূইয়া, আহসানউল্লা,ইয়াছিন আলী,আলী হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, মনির হোসেন, নাসিরউদ্দীন, শামিম মিয়া,তারিকুল ইসলাম, জয়বাল আবেদীন,আব্দুস সালাম প্রমুখ । বক্তারা বলেন, ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর