টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ার মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোরের এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী লোহার রডবোঝাই একটি ট্রাক ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সরাতৈল এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারালে ভারী ট্রাকটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। ট্রাকের নিচে এবং রডের আঘাতে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর পর-ই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দল। যমুনা সেতু পূর্ব থানার (টাঙ্গাইল) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফুয়াদ রোহানী দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ট্রাকটি অতিরিক্ত বোঝাই ছিল নাকি চালক ঘুম চোখে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক এবং রডগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক এস এম হুমায়ুন কারনায়েক জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ভারী রড ও ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে থাকায় মরদেহগুলো বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি আহত অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আহতদের চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার সাদিকুর রহমান জানান, হাসপাতালে মোট ১৫ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এছাড়া অত্যন্ত মুমূর্ষু অবস্থায় আরও ৪ জনকে হাসপাতালে আনা হয়, যাদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন এই চারজনের অবস্থাই বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাদের বাঁচানোর জন্য হাসপাতালের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকারিভাবে বহন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।