ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

২০৩০ সালের মধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে বিশ্বের ১৫ শহর!


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৫ মে, ২০২৬ সময় : ১১:০২ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আগামী দিনগুলোতে কোটি কোটি মানুষের জীবনে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় বন্যা নিয়ে গবেষণা করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ক্লাইমেট সেন্ট্রাল’ (Climate Central) একটি নতুন ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করেছে। ওই মানচিত্রে দেখা গেছে, বিশ্বনেতারা ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারগুলো যদি এখনই পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি শহর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে জোয়ারের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই তালিকায় বাংলাদেশের খুলনা এবং ভারতের কলকাতার নামও রয়েছে।

‘ক্লাইমেট সেন্ট্রাল’, ‘টাইম আউট’ এবং ‘লাইভ সায়েন্স’-এর যৌথ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ১৫টি শহরের বিস্তারিত তালিকা ও পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

১. খুলনা, বাংলাদেশ: বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম বিভাগীয় শহর খুলনা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২৯ ফুট (৯ মিটার) উঁচুতে অবস্থিত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে খুলনা অঞ্চলটি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অরক্ষিত। বিগত ২০২১ সালের বিধ্বংসী বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে দেখা গেছে যে উপকূলীয় এই জেলাটি এবং এর আশপাশের সুন্দরবন অঞ্চল চরম প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

২. কলকাতা, ভারত: ঐতিহাসিক শহর কলকাতা ও এর আশপাশের উর্বর বদ্বীপ অঞ্চল শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কৃষির জন্য সমৃদ্ধ ছিল। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও চারপাশের জলাভূমি ভরাট করে শহরের প্রসারণই এখন মূল উদ্বেগের কারণ। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সরে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত খোলা জমি না থাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে শহরটির বড় অংশ স্থায়ী জলমগ্নতার ঝুঁকিতে পড়বে।

৩. ভেনিস, ইতালি: ঐতিহাসিক ও পর্যটন শহর ভেনিস বর্তমানে দুটি বড় সংকটের মুখোমুখি। প্রথমত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত প্রতি বছর শহরটির নিজস্ব ভূখণ্ড দুই মিলিমিটার করে মাটির নিচে দেবে যাওয়া। বর্তমানে শহরটিতে কোটি টাকার বন্যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও জোয়ারের পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে তা ধরে রাখা কঠিন হবে।

৪. মালে, মালদ্বীপ: দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের রাজধানী মালে দীর্ঘ সময় ধরেই সাগরের গ্রাসে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই অস্তিত্ব সংকট মোকাবিলায় তারা ইতোমধ্যে বিশ্বের প্রথম ‘ভাসমান শহর’ তৈরি করা শুরু করেছে। মালের মূল অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চারপাশের কৃত্রিম দ্বীপ হুলহুমালের একটি বড় অংশ জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে গুরুতর সংকটে রয়েছে।

৫. ব্যাংকক, থাইল্যান্ড: ২০২০ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্বল্পমেয়াদে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্যাংকক সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ ফুট (১.৫ মিটার) উঁচুতে অবস্থিত এবং এটি ভেনিসের চেয়েও দ্রুত গতিতে দেবে যাচ্ছে। শহরটি ঘন কাদা মাটির ওপর নির্মিত হওয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে এর উপকূলীয় অঞ্চল থা খাম, সামুত প্রাকান এবং প্রধান বিমানবন্দর ‘সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ পানির নিচে চলে যেতে পারে।

৬. হো চি মিন সিটি, ভিয়েতনাম: ভিয়েতনামের এই অর্থনৈতিক হাবের পূর্ব দিকের জেলাগুলো, বিশেষ করে সমতল ‘থু থিয়েম’ এলাকা এবং মেকং বদ্বীপ অঞ্চল ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে শহরের কেন্দ্রস্থল পুরোপুরি পানির নিচে না গেলেও, এটি নিয়মিত বন্যা এবং মারাত্মক গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ের কবলে পড়বে।

৭. বসরা, ইরাক: ইরাকের প্রধান বন্দর নগরী বসরা পারস্য উপসাগরে পতিত হওয়া বিশাল নদী ‘শাত আল-আরব’-এর তীরে অবস্থিত। চারপাশের অসংখ্য খাল, ছোট নদী এবং জলাভূমির জালের কারণে বসরা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। শহরটি ইতোমধ্যে তীব্র পানিবাহিত রোগে ভুগছে, ফলে বন্যা বাড়লে পরিস্থিতি আরও অনিয়ন্ত্রিত হবে।

৮. নিউ অরলিন্স, যুক্তরাষ্ট্র: আমেরিকার এই ঐতিহাসিক শহরটিকে উত্তর ও দক্ষিণ দিকের বিশাল লেক বা হ্রদের বন্যার পানি থেকে রক্ষা করে এর চারপাশের বিশাল কৃত্রিম বাঁধ ও দেয়াল। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে শহরটি অনেক আগেই তলিয়ে যেত। ২০০৫ সালের ক্যাটরিনা হারিকেনের সময় ৫০টিরও বেশি বাঁধ ভেঙে শহরের ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল, যা প্রমাণ করে এই ব্যবস্থাটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

৯. সাভানা, যুক্তরাষ্ট্র: ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় অবস্থিত আমেরিকার সাভানা শহরটির জমি অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্রের গ্রাসে চলে যেতে পারে। উত্তরের সাভানা নদী এবং দক্ষিণের ওগিচি নদী; উভয়ই যেকোনো তীব্র হারিকেন বা জলোচ্ছ্বাসের সময় পুরো শহরটিকে প্লাবিত করার ক্ষমতা রাখে।

১০. আমস্টারডাম, নেদারল্যান্ডস: নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম, রটারডাম এবং দ্য হেগ শহরগুলো উত্তর সাগরের খুব কাছাকাছি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে নিচু এলাকায় অবস্থিত। উন্নত বন্যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই দেশের বাঁধ, ব্যারিয়ার এবং ফ্লাডগেট ব্যবস্থা আগামী দিনগুলোতে টিকে থাকার জন্য আরও বেশি অপরিহার্য হয়ে উঠবে।

১১. নাগোয়া, জাপান: জাপানের এই শিল্প বন্দর নগরীটি মে এবং অক্টোবর মাসের টাইফুন বা ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে চরম ঝুঁকিতে পড়ে। নাগারা এবং কিসো নদীর অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় নাগোয়া শহরের পশ্চিমাঞ্চল ২০৩০ সালের মধ্যে চরম বন্যার কবলে পড়তে পারে।

১২. পোর্ট সাইদ, মিসর: মিসরের উত্তর-পূর্ব উপকূলীয় এই শহরটির কেবল জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ঝুঁকিতেই নেই, বরং এর পশ্চিম এবং নিচের বিশাল কৃষিজমি চিরতরে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় সরকার এখন বালু ও কংক্রিট দিয়ে কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করছে।

১৩. জর্জটাউন, গায়ানা: গায়ানার রাজধানী জর্জটাউন শত বছর ধরে ঝড় থেকে বাঁচতে ২৮০ মাইল দীর্ঘ একটি বিশাল সমুদ্র দেয়ালের ওপর নির্ভর করে আসছে। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ উপকূলে বাস করায় জর্জটাউনের মধ্যাঞ্চলকে বাঁচাতে এই দেয়ালটিকে আরও উঁচু ও শক্তিশালী করা জরুরি।

১৪. ড্যান্ডং, চীন: উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী ইয়ালু নদীর তীরে অবস্থিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই শহরটিতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস করেন। জোয়ারের গড় স্তরের নিচে অবস্থান করায় এই বিশাল অঞ্চলটি যেকোনো সময় নদীর পানিতে নিমজ্জিত হতে পারে।

১৫. বাঞ্জারমাসিন, ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়ার বাঞ্জারমাসিন শহরটি মূলত বারিতো নদীর কাছের একটি নিচু জলাভূমি বদ্বীপে গড়ে উঠেছে। ‘হাজার নদীর শহর’ নামে পরিচিত এবং আদিবাসী বাঞ্জারেজ সংস্কৃতির অন্যতম এই কেন্দ্রটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে চিরতরে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর