রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে বজ্রপাতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মাসহ একই পরিবারের আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাতের এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট ডানে বাইবাছড়া গ্রামে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় ঝড়-বৃষ্টি চলছিল এবং পরিবারের সবাই একটি বসতঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। হঠাৎ করে ঘরের ওপর বজ্রপাত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম উজ্জ্বল চাকমা (৩ মাস)। আহতদের মধ্যে রয়েছেন শিশুটির বাবা নয়ন চাকমা (২৫), মা রেশমি চাকমা (২০), প্রদীপ চাকমা (৫০), মায়া রানি চাকমা (৪৫), জেরিং চাকমা (১৮) এবং নিজুম চাকমা (১৫)। তারা সবাই সাজেক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাইবাছড়া গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বজ্রপাতের বিকট শব্দে পুরো ঘর কেঁপে ওঠে। এ সময় কোলে থাকা শিশু উজ্জ্বল চাকমা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বজ্রপাতের পরপরই এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তাদের খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দয়াধন চাকমা বলেন, “রাতের বজ্রাঘাতে শিশুটি মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। কোলের শিশুটি এভাবে চলে যাওয়া খুবই দুঃখজনক। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে আছি এবং সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। পর্যাপ্ত নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা জরুরি।