কিশোরগঞ্জের হাওরের অলওয়েদার সড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী, স্ত্রী ও তাদের শিশু সন্তান নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের মিঠামইন উপজেলার ভাতশালা সেতু সংলগ্ন কাস্তল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এক পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন মিঠামইন উপজেলার মহিষাকান্দি গ্রামের মনির হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) এবং তাদের ছয় বছর বয়সী ছেলে আয়ান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনির হোসেন মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা চালবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান দ্রুতগতিতে এসে তাদের মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মনির হোসেন, তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার ও শিশু সন্তান আয়ানের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় নিহতদের স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর পিকআপটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে গাড়িটি আটক করতে সক্ষম হন। পরে খবর পেয়ে মিঠামইন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটক পিকআপ ও চালকের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঈদের আগে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, মনির হোসেন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছোট্ট শিশু আয়ানকে নিয়ে পরিবারটির অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এক মুহূর্তের দুর্ঘটনায় সবকিছু শেষ হয়ে গেল।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অলওয়েদার সড়কে দিন দিন বেপরোয়া যান চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির পিকআপ ও ভারী যানবাহনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা সড়কে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।