পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেননি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, অন্তত ১৫০টি আসনে তৃণমূলকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। ভোট গণনাকেন্দ্রে ‘লুট’ হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে মমতা ইঙ্গিত দেন, নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে তার দল। এরপর থেকেই নির্বাচনী পিটিশন দায়েরের প্রস্তুতি শুরু করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে আইনি লড়াইয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন দলের অনেক পরাজিত প্রার্থী। তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, বহু প্রার্থী নির্বাচনী পিটিশনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে আদালতের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর যে পরিকল্পনা দল করছে, সেটি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টির বেশি আসনে নির্বাচনী পিটিশন দায়েরের মতো তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থীদের অনীহা পুরো প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী এবং জাঙ্গিপাড়ার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে নির্বাচনী পিটিশনের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রাজি হননি।
কল্যাণ বলেন, তার এক জুনিয়র আইনজীবী স্নেহাশিসের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু স্নেহাশিস নাকি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়ে কল্যাণ বলেন, “২০১১ সালের আগে জাঙ্গিপাড়ায় কেউ ঢুকতে পারত না। আমি ২০০৯ সালে জেতার পর ২০১১ সালে ও জিতল। ১৫ বছর ধরে সব সুবিধা ভোগ করল, আর এখন সরে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছে, তারাই এখন দল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।”
স্নেহাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হলে তিনি শুধু ‘না’ লিখে জবাব দেন। অর্থাৎ, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
এদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ও এবারের নির্বাচনে উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে হারলেও তিনি সক্রিয়ভাবে দলের আইনি প্রস্তুতিতে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ফল প্রকাশের পর থেকে নিয়মিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যাওয়া এবং বিভিন্ন জেলার রিপোর্ট সংগ্রহ করে মামলার প্রস্তুতিতে ভূমিকা রাখছেন তিনি।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএমের সিলযুক্ত ১৭-সি ফর্মের নম্বরের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভোটযন্ত্রের অতিরিক্ত চার্জ থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে অনেক পরাজিত প্রার্থীর অনীহা তৃণমূলের আইনি লড়াইকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।