ভারতের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারত যা চাইবে, তাই পাবে। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন তিনি।
গত সোমবার নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লাইভ ফোনকলে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ফোনকলে ট্রাম্প বলেন, “ভারত আমার এবং আমার দেশের ওপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারে। যদি কখনও তাদের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তারা জানে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা—যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত—খুব ভালোভাবে এগিয়ে চলছি। একের পর এক নতুন রেকর্ড তৈরি করছি। আমাদের রয়েছে রেকর্ড অর্থনীতি এবং রেকর্ড পুঁজিবাজার।”
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারত যা চায়, তা-ই পাবে। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনেক বড় ভক্ত।”
নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসের এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মূলত অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই গত ২৩ মে ওয়াশিংটন থেকে ভারতে যান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিজের পরিবারের অভিবাসী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র শুধু বিশ্বের জন্যই নয়, ব্যক্তিগত পর্যায়েও আশার প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ, যেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষ নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়ম জয়শঙ্করও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
জয়শঙ্কর বলেন, “উভয় দেশই সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র জিরো-টলারেন্স নীতি অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থান বর্তমানে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।