রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে পুড়ছে পশ্চিম ইউরোপের চার দেশ ফ্রান্স, পর্তুগাল, স্পেন ও যুক্তরাজ্য। চলতি মে মাসেই এসব দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা গত একশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া সংস্থাগুলো।
ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর মেটেও ফ্রান্স জানিয়েছে, দেশটিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তাপপ্রবাহ দ্রুত কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। রাজধানী প্যারিসে টানা চার দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছে।
পর্তুগালেও ভয়াবহ গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গত চার দিন ধরে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ছয়টি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্পেনের উত্তর উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকায়ও তাপপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক দিন ধরে ওইসব অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে অবস্থান করছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর এইমেট এই পরিস্থিতিকে “অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা” হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরো সপ্তাহজুড়ে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
এদিকে যুক্তরাজ্যেও অস্বাভাবিক গরমে বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। সাধারণত শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত যুক্তরাজ্যে মে মাসে এমন তাপমাত্রা খুবই বিরল ঘটনা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো সাধারণত শীতল আবহাওয়ার অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। মে মাসে এসব দেশে তাপমাত্রা সাধারণত ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ওঠে না। কিন্তু এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন।
ইতিহাস বলছে, এর আগে ১৯২২ সালের মে মাসে ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্যে গড় তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। এতদিন সেটিকেই মে মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে ধরা হতো। তবে এবারের তাপপ্রবাহ সেই পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন ইউরোপের এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।