ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কিচেন কেবিনেট ছিল, আমি সদস্য ছিলাম না: আসিফ মাহমুদ


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৭ মে, ২০২৬ সময় : ২:৪১ এএম

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারে ‘কিচেন কেবিনেট’ নামে একটি অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামো ছিল, তবে তিনি এর সদস্য ছিলেন না।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, “কিচেন কেবিনেট ছিল, কিন্তু আমি সেটার সদস্য ছিলাম না।”

রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় ‘কিচেন কেবিনেট’ বলতে আনুষ্ঠানিক কোনো ফোরাম বোঝায় না। সাধারণত এটি এমন একটি প্রভাবশালী ও ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পরামর্শ করে থাকে।

সম্প্রতি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনায় সাত সদস্যের একটি কিচেন কেবিনেট সক্রিয় ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সেখান থেকেই আসত।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি প্রথমে ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি সরকার থেকে পদত্যাগ করে এনসিপির মুখপাত্র হন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চুক্তি বিষয়ে এনসিপির কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষায়, “আমরা মনে করি, এই চুক্তি বিএনপির আমলে হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে সেটি অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়ে চাপানো হয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, চুক্তির বিষয়ে তার দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এনসিপির অভ্যন্তরীণ আলোচনার পরও বিষয়টি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক দায়-দায়িত্ব নিয়ে তিনি মন্তব্য করে বলেন, এটি একটি “রাজনৈতিক দোষারোপের খেলা” চলছে।

এছাড়া ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়েও মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বেশিরভাগ পশুর হাট নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানা অনিয়ম চলছে। তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং পরিবহন ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) পরিবারতন্ত্রের প্রভাব নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “মনে হচ্ছে আমরা একটি রাজতন্ত্রে বাস করছি। ক্রীড়াক্ষেত্র দলীয়করণের বদলে এখন পরিবারকরণের দিকে যাচ্ছে।” সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের অবস্থান তুলে ধরেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর