ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধান ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন না করার কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের সূত্র অনুযায়ী সৌদি আরব তাদের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান থেকে একটুও সরে আসেনি। রিয়াদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হলো একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যুক্ত করার আশা প্রকাশ করেন। তবে এই উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সৌদি অবস্থান অনুযায়ী, ফিলিস্তিন সংকট সমাধান ছাড়া কোনো ধরনের স্বীকৃতি বা কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব নয়। দেশটি দ্বি-রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এক বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানান, সৌদি আরব এই চুক্তিতে অংশ নিতে আগ্রহী হলেও তার পূর্বশর্ত হলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব রূপরেখা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে সৌদি আরব প্রস্তুত রয়েছে, তবে এটি অবশ্যই একটি কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানের ভিত্তিতে হতে হবে।
অন্যদিকে পাকিস্তানও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, পাকিস্তান কোনোভাবেই এমন কোনো চুক্তির অংশ হবে না যা ফিলিস্তিন প্রশ্নে ন্যায়সংগত সমাধান ছাড়া এগিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমারেখা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।
পাকিস্তান ইতোমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করে আসছে। দেশটির পাসপোর্টেও ইসরায়েল ভ্রমণ নিষিদ্ধ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা মনে করছেন, ফিলিস্তিন ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েল-আরব সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।