৩২ লাখ টাকা দিয়ে একজন মন্ত্রী গরু কেনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সরকারি বেতন যদি বছরে প্রায় ৪২ লাখ টাকা হয়, তাহলে সেই আয়ের একটি বড় অংশ যদি এককভাবে গরু কেনার পেছনে ব্যয় করা হয়, তবে সংসার চালানোর মতো খরচ তিনি কীভাবে নির্বাহ করেন।
মঙ্গলবার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “৩২ লাখ টাকা দিয়ে গরু কেনার বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে বিস্ময়কর ও প্রশ্নবিদ্ধ। একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী যদি তার আয়ের বড় অংশ একবারেই এমন খাতে ব্যয় করেন, তাহলে তার আয়ের প্রকৃত উৎস এবং ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের চাপ, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক সংকটে যখন জর্জরিত, তখন সরকারি পর্যায়ের এ ধরনের ব্যয় জনগণের মনে প্রশ্ন তৈরি করে। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ব্যয়ের বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নও এখানে জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা মনে করি, সরকার দেশ পরিচালনায় কার্যকরভাবে সফল হচ্ছে না। সরকারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এর সুযোগে ভিন্ন কোনো শক্তি পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কিছু পক্ষ রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, জনগণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “চুক্তি করার সময় সব রাজনৈতিক দলকে জানানো হয়েছে বলা হলেও বাস্তবে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্য চুক্তির জন্য নির্ধারিত সময় থাকা সত্ত্বেও সরকার দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নিয়ে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের ঘাটতি রয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
পুরো সংবাদ সম্মেলনে সরকারি নীতি, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠে আসে। এনসিপি নেতাদের মতে, এসব বিষয় নিয়ে জনগণের সামনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি, যাতে রাজনৈতিক আস্থা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে।