সারা দেশে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা থাকলেও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে এক দিন আগেই বুধবার ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের আংশিক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধর্মীয় রীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিবছরই এক দিন আগে রোজা পালন করেন এবং দুটি ঈদই অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করে আসছেন।
এই বিশেষ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বুধবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে সহস্রাইল দায়রা শরিফ, রাখালতলি এবং মাইটকুমরা মসজিদে মোট চারটি আলাদা জামায়াতে ঈদের নামাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কাটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমরা, রাখালতলি, গঙ্গানন্দপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের কিছু মানুষ মূলত চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরিফের অনুসারী। তারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চন্দ্র মাস গণনা করেন এবং সে অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও এই সব এলাকায় ঈদের নামাজের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে এই গ্রামগুলোর বিশেষ অনুসারীদের বাড়ি বাড়ি।
সহস্রাইল দায়রা শরিফে ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর আগত সকল মুসল্লির জন্য ঐতিহ্যগতভাবে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও করেছে স্থানীয় মসজিদ কমিটি। সেখানে অনুষ্ঠিত প্রধান ঈদের জামায়াতে ইমামতি করবেন ধলেরচর দরবার শরিফের পীর সাহেব মুফতি মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান। আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বোয়ালমারীর কাঁটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহিদুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরিফ ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এক দিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এবারও চারটি বড় জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি আরও জানান, বোয়ালমারীর এই গ্রামগুলোর পাশাপাশি আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের কিছু মানুষও এই বিশেষ ঈদের জামায়াতে অংশ নেবেন।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কার জানান, অতীতে ধলেরচর মাদ্রাসা ঈদগাহ মাঠে এই অনুসারীদের আলাদা জামায়াত অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু ইমাম অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর সেখানে আর নতুন করে জামায়াত হচ্ছে না। বর্তমানে ধলেরচরের ওই বিশেষ মতাদর্শের কয়েকজন মুসল্লি প্রতি ঈদে সহস্রাইল দায়রা শরিফে গিয়ে বোয়ালমারীর মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই অঞ্চলে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের প্রথা বহু বছরের পুরোনো। সংখ্যায় সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছুটা কম হলেও নিজেদের গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য অনুসরণ করেই তারা প্রতি বছর এই বিশেষ দিনে ঈদ পালন করে থাকেন।