ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সোনাডাঙ্গায় নৃশংস ট্রিপল মার্ডার

নানি ও দুই শিশুর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক


  • আপলোড সময় : রবিবার ৩১ মে, ২০২৬ সময় : ৯:০৫ এএম

খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনা মহানগরীর একটি আবাসিক বাসা থেকে এক বৃদ্ধা নারী ও তার দুই আপন নাতির রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। শনিবার (৩০ মে) আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার সুজুকি গলির পাশের একটি চার দেয়ালের ভাড়া বাসা থেকে এই তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর এই ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বা উদ্দেশ্য প্রাথমিকভাবে এখনও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুর্ভাগ্যজনক ব্যক্তিরা হলেন নানি বেবি (যার বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর) এবং তার দুই নাতি শামীম (যার বয়স ১২ বছর) ও মুস্তাকিম (যার বয়স মাত্র ৪ বছর)। সোনাডাঙ্গা এলাকার এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, ঘরের ভেতর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশি তদন্তের প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুই শিশু শামীম ও মুস্তাকিমের মায়ের নাম মেরি (যার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর)। মেরির প্রথম স্বামী মাসুমের সন্তান ছিল শামীম ও মুস্তাকিম। পরবর্তীতে মেরির দ্বিতীয় বিয়ে হয় রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। প্রায় চার বছর আগে রফিকুলের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেছিলেন মেরি। মেরি তার এই দুই সন্তান এবং বৃদ্ধা মাকে নিয়ে সোনাডাঙ্গা এলাকার সুজুকি গলির পাশের ওই বাড়িতে নিয়মিত ভাড়া থাকতেন। তবে এই লোমহর্ষক ঘটনার পর থেকেই মেরির দ্বিতীয় স্বামী রফিক সম্পূর্ণ পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উন্মোচনের অংশ হিসেবে বর্তমানে মেরি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেরি তার মা বেবি ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওই বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তার প্রথম স্বামী মাসুমের সেখানে কোনো যাতায়াত ছিল না এবং তিনি এখানে থাকতেন না। তবে মাঝে মধ্যে মেরির দ্বিতীয় স্বামী রফিক এই ভাড়া বাসায় আসতেন। পবিত্র ঈদের দিন রাতেও মেরির মা ও দুই সন্তানকে এলাকার সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন। এরপরই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা উদঘাটনের জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সিআইডির (CID) অপরাধ তদন্ত বিভাগের বিশেষ ক্রাইম সিনের একটি দক্ষ টিম ইতিমদ্ধেই মাঠে কাজ শুরু করেছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর