ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

সাবমেরিন ক্যাবল সুরক্ষায় পানির নিচে ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করছে তিন পরাশক্তি


  • আপলোড সময় : রবিবার ৩১ মে, ২০২৬ সময় : ১১:১৮ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বিস্তৃত অতি সংবেদনশীল সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা রক্ষা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এবার পানির নিচে চালিত অত্যাধুনিক ড্রোন বা আন্ডারওয়াটার ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ত্রিপক্ষীয় সামরিক জোট ‘আকাস’ (AUKUS)। বিশ্বের তিন শক্তিশালী দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোটের বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই আধুনিক চালকবিহীন ডুবোযান বা আনম্যান্ড আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (UUV) প্রযুক্তি আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই সামরিক ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হবে বলে জোরালো আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের (Reuters) এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।

এই মেগা সামরিক প্রকল্পটির পেছনে মোট কত টাকা বা ডলার ব্যয় হবে, সেই বিষয়ে তিন দেশের সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো অংক প্রকাশ করা না হলেও, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বিশ্ব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তাঁর দেশ এই আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ১৫ কোটি পাউন্ড বা আন্তর্জাতিক মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার আর্থিক অবদান রাখবে। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠকের পর যৌথভাবে এই ড্রোন তৈরির মহাগুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি আসে। মেগা এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আন্তর্জাতিক সামরিক মহলে আকাস জোটের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের ধীরগতি এবং বাস্তবায়নে জটিলতা নিয়ে নানা স্তরে তীব্র সমালোচনা চলছে।

নিজেদের কর্মকাণ্ডের এই বৈশ্বিক সমালোচনা ও ধীরগতির কথা খোলাখুলিভাবে স্বীকার করে নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি সম্মেলনে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আকাস জোট গঠনের পর থেকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বড্ড বেশি কথা বলেছি, কিন্তু সেই তুলনায় বাস্তব ক্ষেত্রে কাজ করেছি অত্যন্ত কম। তবে বর্তমানে আমাদের তিনটি দেশের নতুন সরকারের অধীনে সেই ঢিলেঢালা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে এবং আমরা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

উল্লেখ্য, বিগত ২০২১ সালে ওয়াশিংটনে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি বা জোট ‘আকাস’। এই ঐতিহাসিক চুক্তির মূল চালিকাশক্তি ও লক্ষ্য ছিল তিনটি বন্ধু রাষ্ট্রের মধ্যে যৌথভাবে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ তৈরি করা এবং পারস্পরিক সামরিক দক্ষতা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করা। বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিবিদ ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ইন্দো-প্যাসিফিক বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-উপস্থিতি এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের মতো আন্তর্জাতিক বিরোধপূর্ণ এলাকায় বেইজিংয়ের একচেটিয়া সামরিক প্রভাব ও আধিপত্য সফলভাবে মোকাবিলা করার একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবেই এই শক্তিশালী আকাস জোটকে ব্যাপকভাবে দেখা হয়ে থাকে। আর এবার সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট লাইন ও ডেটা ক্যাবল সুরক্ষার অজুহাতে এই বিশেষ ড্রোন প্রযুক্তি আনার মাধ্যমে চীনের বিরুদ্ধে নিজেদের সামরিক অবস্থানকে আরও এক ধাপ শক্ত করল এই তিন পরাশক্তি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর