আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গোতে নতুন করে প্রাণঘাতী ও অত্যন্ত ছোঁয়াচে ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ চরম ও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। আফ্রিকার এই বিশাল অঞ্চলে ইবোলার এই আকস্মিক ও দ্রুত প্রাদুর্ভাব বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো সতর্কতা জারি করেছে বৈশ্বিক চিকিৎসা-মানবিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বা এমএসএফ (MSF)। কঙ্গোর দুর্গম ইতুরি প্রদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভাইরাসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। গতকাল শনিবার এক জরুরি বিবৃতিতে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বা এমএসএফ-এর সম্মানিত উপপরিচালক ড. অ্যালান গনজালেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কঙ্গোর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক এবং গভীর উদ্বেগজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগে এই অঞ্চলে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে ‘এত বেশিসংখ্যক ইবোলা রোগী’ একসঙ্গে কখনই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, যা অত্যন্ত ভীতিপ্রদ।
যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম বিবিসির (BBC) এক বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আফ্রিকার এই দেশটিতে ইতিমধ্যে প্রাণঘাতী ইবোলায় আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা ১০০০-এর বিশাল মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, মহামারি রূপ নেওয়া এই ভাইরাসের সংক্রমণে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কঙ্গোর এই চরম স্বাস্থ্য বিপর্যয় ও দ্রুত সংক্রমণ ঠেকাতে এবং আক্রান্ত সাধারণ মানুষদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তহবিল বৃদ্ধির জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও (WHO)।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়ে আফ্রিকার কঙ্গোতে শুরু হওয়া ইবোলার অত্যন্ত বিরল ও মারাত্মক ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) স্ট্রেনটি বর্তমানে দেশটির সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র উগান্ডাতেও অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও-এর সর্বশেষ প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য মতে, এই সীমান্ত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ এই মরণঘাতী ভাইরাসে সরাসরি আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়কভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলার এই নির্দিষ্ট ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন, প্রতিষেধক কিংবা কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত না হওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি জটিল ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ফলে কঙ্গো এবং উগান্ডার সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লাখ লাখ সাধারণ মানুষের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থাগুলো সেখানে মহামারি ঠেকানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।