ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু শক্তি নিয়ে কোয়াড জোটের আপত্তিতে ক্ষুব্ধ কিম জং উন


কিম জং উন

  • আপলোড সময় : রবিবার ৩১ মে, ২০২৬ সময় : ১১:২৭ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত চার দেশের শক্তিশালী কৌশলগত জোট 'কোয়াড' (Quad)-এর পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের খবরের পর বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। সমাজতান্ত্রিক দেশটি অত্যন্ত জোরালো ও স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে কখনই পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বা এই সংক্রান্ত সামরিক প্রকল্প ত্যাগ করবে না। বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ (The Telegraph), রয়টার্স (Reuters), দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (The Times of India) এবং আনাদোলু (Anadolu)-র যৌথ প্রতিবেদনে এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার খবরটি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড জোটের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রতি চার দেশের জোট নিজেদের অনড় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। কোয়াডের এই বিবৃতির জবাবে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিশ্ব ইতিহাসে কখনই ঘটবে না। কোয়াড জোটের তীব্র সমালোচনা করে ওই মুখপাত্র আরও বলেন, কোয়াড হলো মূলত একমেরু বিশ্ব আধিপত্য ধরে রাখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নোংরা কৌশল বাস্তবায়নে ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ওই সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোয়াডের এই বৈরী ও আক্রমণাত্মক মনোভাবকে তারা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দা জানায়। এ ছাড়া এই অঞ্চলের স্বাভাবিক শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে এমন সব অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য চার দেশের এই জোটটিকে কড়া আহ্বান জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, চার দেশের জোট কোয়াডের পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের আসল গোপন লক্ষ্য হলো— জাপানের বিপজ্জনক পুনঃঅস্ত্রসজ্জার পদক্ষেপ এবং অস্ট্রেলিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ থাকার আন্তর্জাতিক বিষয়টিকে বিশ্ববাসীর কাছে অযৌক্তিকভাবে ন্যায্যতা দেওয়া। এ ছাড়া বিবৃতিতে পিয়ংইইয়ং সাফ জানিয়ে দেয় যে, উত্তর কোরিয়া যেকোনো মূল্যে তার নিজের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা স্বার্থ নিশ্চিতভাবে রক্ষা করে যাবে এবং এই এশীয় অঞ্চলে যাকে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া বৈরী জোট ও জোটগত সংঘাত বলে অভিহিত করেছে, সেটির বিরুদ্ধে আজীবন কঠোর বিরোধিতা করে যাবে দেশটি।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পিয়ংইয়ংয়ের এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সিউলে নিজের মন্তব্য প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোয়াড জোটকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) একটি সম্ভাব্য ‘এশীয় সংস্করণের ভিত্তি’ হিসেবে গভীর সন্দেহের চোখে দেখে আসছে উত্তর কোরিয়া এবং বারবার এই আঞ্চলিক গোষ্ঠীর কঠোর সমালোচনা করেছে। সিউলের সরকারি মূল্যায়ন মতে, মূলত কোয়াডের সদস্য রাষ্ট্র জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করেই উত্তর কোরিয়ার এবারের তীব্র ও ঝাঁঝালো প্রতিক্রিয়াটি দেওয়া হয়েছে, যা একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র চীনের অবস্থানের প্রতি উত্তর কোরিয়ার পরিষ্কার কূটনৈতিক সমর্থনেরই একটি বড় ইঙ্গিত দেয়।

এই তীব্র রাজনৈতিক বাদানুবাদ ও বিশ্ব উত্তেজনার মধ্যেই, গত মঙ্গলবার (২৬ মে) উত্তর কোরিয়া বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে নিজেদের সামরিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি নির্ভর ক্ষেপণাস্ত্রের সফল ও পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ ও জনপ্রিয় নেতা কিম জং উনের সরাসরি উপস্থিতিতে এবং তাঁর ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে এই অভাবনীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রধান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ (KCNA)।

এক বিশেষ প্রতিবেদনে কেসিএনএ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের নিখুঁত দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রথমবার দেশটির সেনাবাহিনী ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, শক্তিশালী আর্টিলারি রকেট এবং সম্পূর্ণ এআই পরিচালিত প্রিসিশন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের এই সফল ও যুগান্তকারী পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করতে পেরেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের এই সফল পরীক্ষা শেষে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে কিম জং উন বিশ্ব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এআই পরিচালিত এই নতুন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার দূরের যেকোনো ধরনের চলমান বা স্থির লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ এই সামরিক প্রযুক্তির বিস্তারিত জানিয়ে আরও জানিয়েছে, দেশটির নিজস্ব ‘স্পেশাল মিশন ওয়ারহেড’ (Special Mission Warhead) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা এসব অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামগ্রিক ধ্বংসাত্মক শক্তি এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার অনন্য সক্ষমতা বাস্তব ক্ষেত্রে যাচাই করতেই মূলত এই বিশেষ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণটি পরিচালনা করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া বিগত কয়েক বছরে দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতার অভাবনীয় ও চোখধাঁধানো উন্নতির পর, এবার নিজেদের কৌশলগত ও প্রচলিত সামরিক অস্ত্রাগারকে আরও বেশি আধুনিকীকরণে গভীর মনোযোগ দিয়েছে। এ ছাড়া পিয়ংইয়ং তাদের তৈরি করা এসব সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তিচালিত মরণঘাতী অস্ত্রগুলো খুব শিগগিরই দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন করার চূড়ান্ত ঘোষণাও দিয়েছে, যা এই অঞ্চলের সামরিক উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর