কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রেমঘটিত একটি ঘটনায় কিশোরীকে মারধরের অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রোববার (৩১ মে) চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও উপজেলার এক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা চকরিয়া থানায় অপহরণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফাঁসিয়াখালী এলাকার নুরুল আমিনকে আসামি করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে যায়।
অভিযান চলাকালে কিশোরীকে উদ্ধার করা হলেও সে অভিযুক্ত তরুণের কাছ থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় কিশোরী ও ওই তরুণকে মারধরের একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযানের সময় কিশোরী ও তরুণকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেন।
এদিকে ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি পিকআপ ভ্যানের কাচ ভাঙচুর করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নুরুল আমিনের স্বজনদের দাবি, মারধরের ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন এবং তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, অপহরণের অভিযোগে কিশোরীকে উদ্ধারের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় এসআই মো. আরকানুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া কিশোরী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।