বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (১ জুন) সকালে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাঁশঝাড় এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বাইশফাঁড়ী বিওপির একটি বিশেষ টহলদল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্ত পিলার ৩৬/২-এস থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাঁশঝাড় এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযান চলাকালে কোনো মাদক কারবারিকে আটক করা যায়নি।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত ইয়াবার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির কারণে মাদক পাচারকারীদের তৎপরতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এখনো কিছু চক্র সীমান্তকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান এবং চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে আসছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে, যা সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।