ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় একটি গ্যাসের সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকের পেছনে নিয়ন্ত্রণ হারানো প্রাইভেটকার ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে প্রাইভেটকারের চালকসহ দুইজন পুরুষ এবং দুইজন নারী রয়েছেন। আহত হন এক শিশুসহ আরও ৩ জন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরে গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে এক্সপ্রেসওয়ে ধরে একটি প্রাইভেটকার ভাঙ্গার দিকে যাচ্ছিল। মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে প্রাইভেটকারটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সামনে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি একটি ট্রাকের পেছনে অত্যন্ত সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রাইভেটকারটির সম্মুখভাগ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় ভেতরে থাকা চালক ও যাত্রীসহ মোট ছয়জন গুরুতরভাবে আহত হন এবং গাড়ির ভেতরেই আটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আসেপাশের মানুষ ছুটে আসেন এবং জরুরি সেবা সংস্থাকে খবর দেন। খবর পাওয়ার পরপরই শিবচর হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা স্থানীয়দের সহায়তায় দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটি কেটে ভেতর থেকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকাজে গতি আনতে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।
এরপর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রাইভেটকারের চালকসহ চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুইজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযানে নামে। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকার এবং গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাকটি বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গাড়ি দুটিকে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে চালকের ক্লান্তি, অতিরিক্ত গতি নাকি যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি ছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসি মো. মিজানুর রহমান আরও জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে চলমান রয়েছে।