আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পারস্পরিক সামরিক হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলাদাভাবে ফোনালাপের পর তারা তাৎক্ষণিকভাবে গোলাগুলি ও হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি-এর সূত্র ধরে এই তথ্য জানা গেছে।
সোমবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি ‘খুব ফলপ্রসূ’ আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর বিস্তারিত কথা হয়েছে। এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই উভয় পক্ষ আপাতত হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বৈরুতে ইসরায়েলের কোনো নতুন সেনা পাঠানো হবে না এবং যেসব সেনা সেখানে যাওয়ার পথে ছিল, তাদেরও পথ থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের ওপর আর কোনো হামলা চালাবে না বলে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধ এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা স্থগিত রাখার একটি মার্কিন প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে হিজবুল্লাহ। পরবর্তী সময়ে এই প্রাথমিক সাময়িক ব্যবস্থাটি পুরো লেবানন জুড়ে সম্প্রসারণ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে বড় ধরনের এই যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত মিললেও মাঠপর্যায়ে চরম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের শহর ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা পুরোপুরি বন্ধ না করে, তাহলে বৈরুতে আবারও তীব্র হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চলমান স্থল অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শীর্ষ পর্যায়ে এই সমঝোতার ঘোষণা এলেও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি থামেনি। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের দুটি গ্রামের কাছে ইসরায়েলি সেনা ও ট্যাংক লক্ষ্য করে ড্রোন এবং কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, লেবানন থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা মাঝ আকাশেই প্রতিহত করেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাও জানিয়েছে যে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলা হয়েছে এবং ডেবিন শহরে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে লেবানন পরিস্থিতিকে ইরান-সংক্রান্ত আলোচনার বাইরে রাখতে চাইলেও তেহরান বারবার এই দুটি ইস্যুকে পরস্পর-সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করে আসছিল। এমন এক জটিল প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধের এই নতুন উদ্যোগ অঞ্চলটিতে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।