ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

আত্মসমর্পণ নয়, যুদ্ধের প্রস্তুতি—যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বার্তা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:২৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ডের উপপ্রধান মোহাম্মদ জাফর আসাদী। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত যে কোনো সময় শুরু হতে পারে এবং ইরান আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেবে না।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এরপর প্রায় ৪০ দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধ হয় এবং গত ৮ এপ্রিল উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যুদ্ধবিরতির পর কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা শুরু হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এই প্রেক্ষাপটে মোহাম্মদ জাফর আসাদী কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পূর্ণ আত্মসমর্পণ চায়। কিন্তু ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। তার ভাষায়, আত্মসমর্পণের বিকল্প হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতা না হলে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শনিবার এ বিষয়ে বক্তব্য দেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো ধৈর্য ধরে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছেন, যাতে ইরানের সঙ্গে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো যায়। ওই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা।

তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বিকল্পও খোলা রাখছে বলে জানান পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আবারও অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তিনি বলেন, সামরিক প্রস্তুতি ও অস্ত্রভাণ্ডারের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে ইরান কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে আন্তর্জাতিক মহল এখনো কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ না হলে নতুন সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবুও উভয় পক্ষের সাম্প্রতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর