ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

রাষ্ট্রীয় সম্মান শেষে বাবা-মায়ের পাশে শায়িত তোফায়েল আহমেদ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২৬ সময় : ৮:৫৪ পিএম

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ভোলা-১ ও ভোলা-২ আসনের নয়বারের সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির সামনে তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাবা আজাহার আলী, মা ফাতেমা খানম এবং স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

তোফায়েল আহমেদের জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে ভোলা সদর উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে পুরো এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হয়।

জানাজায় অংশ নেন তোফায়েল আহমেদের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

এর আগে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার ঢাকা থেকে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডে অবতরণ করে। পরে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সযোগে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ি কোড়ালিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় মানুষের ঢল নামে। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজারো মানুষ উপস্থিত হন।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পক্ষাঘাতসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সিসিইউ এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাজনীতির পাশাপাশি তোফায়েল আহমেদ ছিলেন একজন জনবান্ধব মানুষ। মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র এবং দেশের উন্নয়নে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে ভোলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তারা আরও বলেন, তার মৃত্যু শুধু ভোলার নয়, দেশের রাজনীতির জন্যও বড় ক্ষতি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিলেন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর ভিপি ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর