ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ঘুমন্ত অবস্থায় ২১ জনের মৃত্যু


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৩ জুন, ২০২৬ সময় : ৩:২৮ পিএম

ভারতের রাজধানী দিল্লির মালভিয়া নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও ৪০ জনেরও বেশি মানুষ। বুধবার (৩ জুন) সকালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে পাঁচতলা ভবন ‘ফ্লোরিশ স্টে’-এর বেসমেন্টে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন পাশের আরেকটি হোটেল ‘মিকাসা ইন’-এ ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলের রেস্তোরাঁর শেফ কেসার সিং জানান, সকালে একটি বৈদ্যুতিক চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করতেই হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই পুরো হোটেল আগুনে গ্রাস করে নেয়।

ঘটনার সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথিই ঘুমাচ্ছিলেন। হোটেলটি মূলত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে আসা রোগীদের স্বজনদের জন্য জনপ্রিয় ছিল। দক্ষিণ দিল্লির নামী ‘ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল’ কাছে হওয়ায় অনেক বিদেশি নাগরিকও এই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ৪০ জন অতিথি ছিলেন। জরুরি বার্তা পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্বলন্ত ভবন থেকে প্রাণ বাঁচাতে কিছু মানুষ নিচে লাফ দিচ্ছেন।

হৌজ রানির সরু গলিতে অবস্থিত এই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে দিল্লি প্রশাসন। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দিল্লি সরকার হোটেলটিকে মাত্র ৬টি কক্ষ পরিচালনার লাইসেন্স দিয়েছিল। কিন্তু নিয়ম ভেঙে তারা বেসমেন্টসহ মোট ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করছিল। এ ছাড়া পুরো হোটেলটিতে যাতায়াতের জন্য ছিল মাত্র একটি পথ, যা জরুরি অবস্থায় সাধারণ মানুষের বের হওয়ার পথ কার্যত বন্ধ করে দেয়। হোটেলটির অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রত্যেকের জন্য ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের দ্রুত পদক্ষেপে অনেককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আহতদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে দিল্লি সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে।





এ সম্পর্কিত আরো খবর