ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

মমতার তৃণমূলে ভাঙনের সুর, বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী নেতা করলেন বিদ্রোহীরা


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৩ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:৫২ পিএম

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পর এবার বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে ৫৮ জন বিধায়ক বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করেছেন বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বুধবার দুপুরে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী বিধায়করা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি জমা দিয়েছেন।

চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, বিধানসভায় দলের কর্তৃত্ব নিয়ে যে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে তা স্পষ্ট। তৃণমূলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন এই নতুন সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিরোধী দলের নতুন মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। স্পিকার রথীন্দ্র বসু এই আবেদনের বিষয়ে বিকেলে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানিয়েছেন।

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা চলছে। দল ২৯৪ আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসন পাওয়ায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পরাজিত হওয়ায় দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলের নেতা করার প্রস্তাব পাঠান। তবে ওই চিঠিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা সরব হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তৃণমূলের অন্দরের এই ক্ষোভ এখন রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য বিদ্রোহে। সিআইডি এই স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনার তদন্ত করছে এবং ১৩ জন বিধায়কের বয়ান রেকর্ড করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দল সামলাতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ছাত্র পরিষদ, মহিলা শাখা ও সংখ্যালঘু সেলসহ সব কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে সাজানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহাই স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। অন্যদিকে, বিদ্রোহী ৫৮ বিধায়ক আখতারুজ্জামানের ডেপুটি হিসেবে জাভেদ খান, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহার নাম চূড়ান্ত করেছেন। মমতাকে দলনেত্রী মানলেও বিদ্রোহীদের এই নতুন কমিটি গঠন তৃণমূলের জন্য অস্তিত্বের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাঙনের প্রক্রিয়া আগামীতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর