কক্সবাজারের চকরিয়ায় আইনজীবী সমিতির সভাপতির বাড়িতে জানালার লোহার গ্রিল কেটে প্রবেশ করে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ও ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ এবং মুঠোফোন লুট করে নিয়ে গেছে একদল সশস্ত্র ডাকাত। বুধবার ভোররাত ৪টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাবিব উদ্দিন মিন্টুর নিজ বাড়িতে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য ও ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় গভীর রাতে ডাকাত দলের সদস্যরা অত্যন্ত সুকৌশলে জানালার লোহার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। ভবনে ঢুকেই তারা প্রথমে ওই বাড়ির এক অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় ডাকাতেরা ঘরে থাকা ১০ বছর বয়সী এক নাতনি এবং এক যুবতী গৃহকর্মীকেও নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। পরিবারের নারীদের জিম্মি করার পর ডাকাত দল পুরো বাড়িতে তাণ্ডব চালায় এবং আলমারি ভেঙে প্রায় চার ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, নগদ দুই লাখ টাকা এবং তিনটি দামি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে অনায়াসে পালিয়ে যায়।
অ্যাডভোকেট হাবিব উদ্দিন মিন্টুর স্ত্রী ছৈয়দা দিলসাত খানম জানান, ঘটনার সময় তাঁর স্বামীসহ পরিবারের দুই সন্তান বিশেষ দরকারে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ না থাকার এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েই সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে এই নির্মম লুটপাট ও তাণ্ডব চালায়। ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবারের নারীরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে বাড়িতে ডাকাতির এই খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুল কবির বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় আইনজীবীদের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনার পর এবার সভাপতির বাড়িতে এই ধরনের ডাকাতির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি আইনজীবী সমাজসহ সাধারণ নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, “ডাকাতির খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে এবং তাদের গ্রেপ্তার করে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশ ইতিমধ্যেই সর্বাত্মক কাজ শুরু করেছে। অপরাধীরা কোনোভাবেই পার পাবে না।”