ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ইরানে নতুন সামরিক পদক্ষেপ রুখতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ঐতিহাসিক বিল পাস


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:০২ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত পার্লামেন্ট ভবনে স্থানীয় সময় বুধবার আয়োজিত এক অধিবেশনে দীর্ঘ বিতর্ক ও ভোটাভুটি শেষে বিলটি পাস হয়। চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২১৫টি এবং বিপক্ষে ২০৮টি ভোট পড়ে। প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চারজন প্রভাবশালী সদস্যও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এই বিলের পক্ষে নিজেদের ভোট দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্টের একক যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা এবং সামরিক শক্তির ওপর লাগাম টানতে এটি মার্কিন কংগ্রেসের চতুর্থতম প্রচেষ্টা। অর্থাৎ মার্কিন কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেন নিজ ক্ষমতাবলে মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো নতুন সহিংসতা উসকে দিতে না পারেন, কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারা মূলত সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই বিলটি এখন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তবে মার্কিন সিনেট বর্তমানে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সেখানে বিলটি পাস হওয়া নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, সিনেটে অনুমোদন পেলেও এই নতুন উদ্যোগ যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাছাড়া, এই বিলটিতে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বিশেষ ভেটো ক্ষমতা বা বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এটি বাতিল করে দিতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে তা নাকচ করার জন্য মার্কিন পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের বিপুল সমর্থনের প্রয়োজন হবে।

বুধবারের এই ঐতিহাসিক ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিৎজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন সরাসরি ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে বিলের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে মেইনের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জারেড গোল্ডেন এর আগে এমন উদ্যোগের বিপক্ষে থাকলেও এবার তিনি বিলের পক্ষে রায় দিয়েছেন। মিশিগানের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম ব্যারেট এই বিষয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী একমাত্র কংগ্রেসই যেকোনো যুদ্ধ ঘোষণা করার আইনি অধিকার রাখে। এটা এমন একটা স্পর্শকাতর বিষয়, যা নিয়ে আমাদের অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।” বিলের পক্ষে ভোট দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজনৈতিক কোনো প্রতিশোধ নিতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে টম ব্যারেট দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “আমি সম্পূর্ণ আমার নিজের বিবেক অনুযায়ী ভোট দিয়েছি। এটাকে আমি দেশের স্বার্থে সঠিক বলে মনে করছি এবং এর যেকোনো ধরনের দায়ভার নিতেও আমি প্রস্তুত আছি।”

অন্যদিকে, কংগ্রেসের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস এই ভোটাভুটিকে ইরানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চালানো ‘অবৈধ ও চরম ব্যয়বহুল’ যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় প্রতিবাদ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, এটি চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার পথে মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এই বর্ষীয়ান কংগ্রেসম্যান আরও বলেন, ইরানে শুরু করা এই যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পূর্বঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টো তাঁর এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমান এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক সমাধানের পথকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও অনেক বেশি কঠিন করে তুলেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর