১৯৭৪ সালে বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারের মতো অভিষেক ঘটেছিল ক্যাঙ্গারুদের দেশ অস্ট্রেলিয়ার। তবে বৈশ্বিক এই ফুটবল মহাযজ্ঞের দ্বিতীয় আসরে খেলতে তাদের দীর্ঘ ৩২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, যা তারা খেলেছিল ২০০৬ সালে। এরপর থেকে অবশ্য তাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রত্যেকটি আসরেই নিয়মিত অংশ নিয়েছে দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বৈশ্বিক ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে টানা ষষ্ঠ আসরে মাঠে নামতে যাচ্ছে সকারুরা।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপসহ এ পর্যন্ত মোট দুইবার শেষ ষোলোতে ওঠা এই দলটি এবার কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নিজেদের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার মিশন নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটির বর্তমান প্রধান কোচ টনি পোপোভিচ, যিনি অতীতে সকারুদের হয়ে ডিফেন্ডার হিসেবে ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৬ সালে জার্মানির মাটিতে দলকে দ্বিতীয় রাউন্ডে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই তারকা ২০২৪ সালের শেষ দিকে গ্রাহাম আর্নল্ডের বিদায়ের পর প্রধান কোচের দায়িত্ব পান এবং সফলভাবে চূড়ান্ত বাছাই পর্ব শেষ করেন। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে অংশ নেওয়ার এক বিরল তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছেন সিডনির এই বাসিন্দা।
ফিফা র্যাংকিংয়ের ২৫তম স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে মোট ৭ বার অংশ নিয়েছে। তাদের সামগ্রিক রেকর্ডে দেখা যায়, ২০টি ম্যাচ খেলে ৪টিতে জয়, ৪টিতে ড্র এবং ১২টি ম্যাচে তারা হারের মুখ দেখেছে। এএফসি বা এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের এই সদস্য দেশটির প্রথম বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে, যেখানে তারা প্রথম রাউন্ডেই পূর্ব জার্মানি, স্বাগতিক জার্মানি ও চিলির মতো কঠিন দলের মুখোমুখি হয়ে বিদায় নেয়। তবে দলটির সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপ ছিল তাদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়।
বিশ্বকাপের এক আসরে প্রথমবারের মতো দুটি ম্যাচ জিতেছিল তারা। প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে পরাজিত হওয়ার পর তিউনিসিয়া ও ডেনমার্কের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় নিয়ে তারা শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। সেখানে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে বিদায় নেয় তারা। সকারুদের পক্ষে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি যৌথভাবে গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ান ও ফরোয়ার্ড ম্যাথিউ লেকি’র দখলে, যারা প্রত্যেকে ১০টি করে ম্যাচ খেলেছেন এবং এবার সেই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আর টানা তিন বিশ্বকাপে মোট ৫টি গোল করে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে রয়েছেন কিংবদন্তি টিম ক্যাহিল। ২০০৬ সালে জাপানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের বিখ্যাত জয়টিই এখনও সকারুদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
আসন্ন উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে অংশ নিতে দলটির প্রধান কোচ টনি পোপোভিচ তাঁর চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। ঘোষিত এই দলে গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন—প্যাট্রিক বিচ, পল ইজ্জো ও অভিজ্ঞ ম্যাথিউ রায়ান। রক্ষণভাগ বা ডিফেন্ডার প্যানেলে ডাক পেয়েছেন—আজিজ বেহিচ, জর্ডান বস, ক্যামেরন বার্গেস, আলেসান্দ্রো সিরকাতি, মিলোস ডেগেনেক, জেসন গেরিয়া, লুকাস হেরিংটন, জ্যাকব ইতালিয়ানো, হ্যারি সাউতার এবং কাই ট্রেউইন।
মাঝমাঠ বা মিডফিল্ডার হিসেবে দলের দায়িত্ব সামলাবেন—ক্যামেরন ডেভলিন, আজদিন হ্রুস্টিচ, জ্যাকসন আরভিন, কনর মেটকাফ, পল ওকন-এংস্টলার এবং এইডেন ও'নিল। আক্রমণভাগ বা ফরোয়ার্ড লাইনে গোল করার গুরুদায়িত্ব থাকছে—নেস্টরি ইরানকুন্ডা, ম্যাথিউ লেকি, আওয়ার মাবিল, মোহামেদ তুরে, নিশান ভেলুপিল্লাই, ক্রিস্টিয়ান ভলপাটো এবং টেটে ইয়েঙ্গি’র ওপর। আগামী ১৩ জুন ভ্যাঙ্কুভারে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের নতুন উচ্চতায় তোলার মিশন শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। এরপর ১৯ জুন সিয়াটলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এবং ২৫ জুন সান ফ্রান্সিসকোতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে তারা।