পাকিস্তানের লাহোর-শিয়ালকোট মহাসড়কে তিন সন্তানের সামনে এক ফরাসি পর্যটককে গণধর্ষণের আলোচিত ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন দেশটির উচ্চ আদালত। বুধবার পাকিস্তানের একটি আদালত আসামিদের করা আপিল আবেদন খারিজ করে এই রায় দেন। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলো আবিদ মালহি ও শাফকাত আলী।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত শক্ত প্রমাণ ও ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে আসামিদের আপিল খারিজ করে দেন। এর আগে ২০২১ সালের মার্চ মাসে একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই দুই অপরাধীকে গণধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিল। রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ তদন্তে ঘাটতির অভিযোগ তুলে উচ্চ আদালতে আপিল করেছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ফরাসি ওই নারী তার তিন সন্তানকে নিয়ে লাহোর থেকে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় মহাসড়কে জ্বালানি ফুরিয়ে বিপাকে পড়েন। তিনি নিরাপত্তার খাতিরে গাড়ির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে সাহায্যপ্রার্থী ছিলেন। এ সময় দুই আসামি গাড়ির কাচ ভেঙে তাকে ও তার সন্তানদের জিম্মি করে। পরে বন্দুকের মুখে সন্তানদের সামনেই ওই নারীকে গণধর্ষণ করা হয়। ঘটনার সময় অপরাধীরা তার কাছে থাকা অর্থ, গহনা ও ব্যাংক কার্ড লুট করে পালিয়ে যায়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ও তার শিশুরা দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ট্রমার শিকার হন।
ঘটনার পর পুলিশ মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আসামিদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। শুনানির সময় ভুক্তভোগী নারী আসামিদের শনাক্ত করেন এবং আসামি শাফকাত আলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।
এই ঘটনা প্রকাশের পর পাকিস্তানে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঘটনার পরদিন লাহোরের এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বিতর্কিত বক্তব্য, যেখানে তিনি ভুক্তভোগী নারীকে রাতে সন্তানদের নিয়ে বের হওয়ার জন্য দুষছিলেন, তা তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। এর প্রতিবাদে করাচি, লাহোরসহ বিভিন্ন শহরে নারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, পাকিস্তানে যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটলেও বিদেশি নাগরিকের ওপর এমন নৃশংস ঘটনা বিরল। আদালতের এই রায়ে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।