মোবাইল ফোনে হঠাৎ ভেসে ওঠা একটি নোটিফিকেশন। ক্লিক করার পর স্ক্রিনে দেখা গেল ইনস্টলিং সিস্টেম আপডেট বা পদ্ধতিগত হালনাগাদ। কয়েক মিনিটের মধ্যে ফোনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন ব্যবহারকারী। এরপর একে একে খালি হয়ে গেল ব্যাংক হিসাব। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন শত শত ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল হোতাদের নাগাল পাচ্ছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ব্যবসায়ী মো. জামাল উদ্দীনের ৭ লাখ ৫২ হাজার ৪৫০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত ভিন্ন পরিণতি পেয়েছে। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে মামলাটি হাতে নেয় চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গত ৭ এপ্রিল জামাল উদ্দীনের মোবাইলে একটি সন্দেহজনক নোটিফিকেশন আসে। সেটিতে ক্লিক করার পর তার ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি ফোনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে জানতে পারেন, তার জিমেইল, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার বা পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপক এবং ব্যাংকিং তথ্য প্রতারকদের হাতে চলে গেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই লোহাগাড়া ও কেরানীহাট এলাকার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের দুটি হিসাব থেকে ধাপে ধাপে সাড়ে ৭ লাখের বেশি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে নেমে জেলা ডিবি দেখতে পায়, প্রতারণার টাকা মুহূর্তের মধ্যে অন্তত অর্ধশতাধিক বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই ডিজিটাল অনুসন্ধানের পর বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ ঘটনায় জড়িত মো. ইকবাল ও মো. রুবেল নামে দুইজনকে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এবং সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন, ১৮টি বিকাশ নিবন্ধিত সিম, আটটি ব্যাংক চেকবই এবং তিনটি ব্যাংক কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল আহমেদ জানান, চক্রটি প্রথমে ভুক্তভোগীদের অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাংকিং তথ্য চুরি করতো। পরে আত্মসাৎ করা অর্থ অনলাইন জুয়া, গরুর ব্যবসা এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রমে বিনিয়োগ করা হতো। চক্রের প্রধান ইকবালের বিরুদ্ধে ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতারণা চক্রের সবচেয়ে বড় শক্তি প্রযুক্তি নয়, বরং আর্থিক সেবাখাতের কিছু দুর্বলতা। যেমন গ্রাহকের নিজের নামে নিবন্ধিত সিম ছাড়া অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলা। মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু এজেন্ট অতিরিক্ত কমিশনের লোভে যথাযথ যাচাই ছাড়াই এসব অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ায় প্রতারকরা পার পেয়ে যাচ্ছে। সাইবার হামলার শিকার গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা বের হয়ে যাওয়ার পর সেটি দ্রুত শনাক্ত ও স্থগিত করার কার্যকর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।