খুলনার পাইকগাছায় ‘হেলথ এডুকেশন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (ঢেউ)’ নামের একটি এনজিওর বিরুদ্ধে আমানতকারীদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের দারুন মল্লিক গ্রামের সুকান্তি সরকার ‘ঢেউ’ নামের প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে অধিক মুনাফা, ডিপিএস ও এফডিআর সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমানত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এনজিওটির সভাপতি অবন্তি সরকার, সহ-সভাপতি পুষ্প রানী সরকার, ক্যাশিয়ার মধুসূদন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বনানী সরকার দায়িত্ব পালন করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংগৃহীত আমানতের অর্থ যথাসময়ে ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর আমানতকারীরা টাকা উত্তোলনের জন্য যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক সুকান্তি সরকার আত্মগোপনে রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অরবিন্দ মুখার্জি, দীপক রায়, মিলন গোলদার ও শিউলি গোলদারসহ অনেক আমানতকারী রয়েছেন। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আটকে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রায় ৩০০ পরিবারের কয়েক কোটি টাকার আমানত বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
এদিকে শনিবার (৬ জুন) সকালে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা। শিক্ষক গৌর সুন্দর সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অর্থ ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বহু পরিবার তাদের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ এবং জীবনের কষ্টার্জিত উপার্জন প্রতিষ্ঠানটিতে জমা রেখেছিলেন। এখন সেই অর্থ ফেরত না পেয়ে তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অবন্তি সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে যা লিখবেন, দয়া করে আমার ও পরিবারের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি বিবেচনা করবেন।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করবে। এলাকাবাসীর মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি।