ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ সৌদির তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩ আট বিভাগেই বৃষ্টির শঙ্কা, অপরিবর্তিত থাকবে দিন-রাতের তাপমাত্রা ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে সিঁড়িতে হুড়োহুড়িতে ঝরল ৬ প্রাণ

দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

একদিনে নতুন শনাক্ত ১ হাজার ২৮৭


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:৪১ পিএম

দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ছোঁয়াচে রোগ হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৮৭ জনের শরীরে মারাত্মক হামের উপসর্গ বা লক্ষণ পাওয়া গেছে। আজ রবিবার (৭ জুন) দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ জরুরি নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের সরকারি প্রতিবেদনে বিশদভাবে জানিয়েছে যে, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের তীব্র উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ৬২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার বড় একটি অংশই কোমলমতি শিশু। এদিকে দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ৬৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই একই সময়ে আরও ১ হাজার ২২১ জনের মধ্যে রোগটির প্রাথমিক উপসর্গ দেখা গেছে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ রবিবার পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ইতিহাসে মোট ৭৯ হাজার ১২ জনের মধ্যে বিভিন্ন মাত্রায় হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সুনির্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় মোট ৯ হাজার ৬৮৬ জনের শরীরে চূড়ান্তভাবে হামের অস্তিত্ব শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যান ও বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ রবিবার পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হাম এবং এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৪ হাজার ২৬৩ জন রোগী গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এসব মারাত্মক আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন ৬০ হাজার ৮৪ জন। তবে এখনও দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ও সাধারণ হাসপাতালের শয্যায় অসংখ্য শিশু হামের জটিল উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হঠাৎ উচ্চ তাপমাত্রা বা জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ বা গুটি এবং তীব্র কাশির মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনো ধরনের অবহেলা না করে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে হামের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতাভুক্ত না করা অথবা অসচেতনতার কারণে এই ছোঁয়াচে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। তবে প্রতিদিন যেভাবে মৃত্যুর মিছিল ও নতুন উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের আরও সমন্বিত ও দ্রুত আইনি ও চিকিৎসাগত পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর