ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বৈষমোড়া এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার বৈষমোড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কুফল যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা আবারও প্রমাণ হলো এই মর্মান্তিক ঘটনার মাধ্যমে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মাধবপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী ‘দিগন্ত পরিবহনের’ একটি লোকাল বাস (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ব ০৫-০০৫৫) যাত্রী নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে আসছিল। বাসটি বৈষমোড়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, চালক অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিলেন। ওই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া অন্তত ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় বাসের ভেতরে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিক উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা বাসের ভেতরে আটকে পড়া আহত যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান। এ সময় মহাসড়কে চলমান উন্নয়নমূলক কাজের জন্য নিয়োজিত একটি এসকেভেটর বাসের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। স্থানীয়দের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও এসকেভেটরটির সময়োপযোগী ব্যবহারের ফলে অনেককে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। খবর পেয়ে সরাইল ও বিজয়নগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই সাহসিকতার সাথে অধিকাংশ উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে ফেলেন সাধারণ মানুষ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাটিখোলা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাতেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে: আরস আলী মুন্সি (৭০), পিতা মৃত ফজু মুন্সি, গ্রাম: সাবাজপুর, থানা: সরাইল, জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া; মৌসুমী দাস (৩০), স্বামী সমর দাস, গ্রাম: কাটিয়ারা, থানা: মাধবপুর, জেলা: হবিগঞ্জ; আলিফ হাসান (৮), পিতা সবুজ মিয়া; এবং তনস মজুমদার (২৩), পিতা সেতু মজুমদার, গ্রাম: ইব্রাহিমপুর, থানা: নবীনগর।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মহাসড়ক থেকে সরানোর কাজ চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই শোকাবহ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি বর্তমানে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।