ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ঝরল ১৩ প্রাণ, কায়রোতে শুরু হলো নতুন শান্তি আলোচনা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:৫১ পিএম

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বর্বর বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে এই হামলায় আরও বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গাজার স্থানীয় সূত্র এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকার আল-মাওয়াসি, গাজা শহর এবং মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় এই পৃথক ও ভয়াবহ হামলাগুলো চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর এই নতুন হামলা গাজা জুড়ে আবারও চরম আতঙ্ক ও মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। নিহতদের পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। ইসরায়েলের এই অব্যাহত আগ্রাসনের মধ্যেই অন্যদিকে যুদ্ধ পুরোপুরি থামানোর এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মিসরের রাজধানী কায়রোতে নতুন দফার এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনে শুরু হওয়া এই বিশেষ আলোচনায় হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় বড় ধরনের যুদ্ধ ও সরাসরি সংঘাত অনেকটাই থেমে আছে। তবে শান্তি প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা সমঝোতা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এই শান্তি আলোচনার মূল ও প্রধান বির্তকিত বিষয়গুলো হলো—গাজা উপত্যকা থেকে সব ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা, হামাসের অস্ত্র জমা দেওয়া এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করা। হামাসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ না হলে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে শান্তি আলোচনায় কোনো ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এই চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী প্রধান দেশ হিসেবে মিসরের পাশাপাশি কাতার এবং তুরস্কও অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কায়রোর এই বহুপাক্ষিক আলোচনা আগামী আরও কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল আশা করছে, এই আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব হবে, যা গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। তবে মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো গভীর সংশয় রয়ে গেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর