নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রিপেইড মিটারের সংযোগ বাতিলের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের কিল্লারপুল এলাকায় ডিপিডিসি কার্যালয়ের সামনে ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নুরুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, সহসভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, মহিউদ্দিন মাহমুদ, বদরুল হক, জাহাঙ্গীর আলম পোকন, মাহমুদ হোসেনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে চালু হওয়া প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বন্ধ করে নাগরিকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, প্রিপেইড মিটার সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ভোগান্তি সৃষ্টি করছে এবং এটি একটি জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত। তাদের দাবি, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক গ্রাহকদের ওপর এ ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, প্রিপেইড মিটারে প্রায়ই ভুতুড়ে বিল, ব্যালেন্স প্রদর্শনে ত্রুটি, রিচার্জের পর ইউনিট না পাওয়া, সার্ভার জটিলতা এবং মিটার অকেজো হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া রিচার্জের সময় অতিরিক্ত ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ কেটে নেওয়া হয়, যা গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অশিক্ষিত মানুষের জন্য এ প্রযুক্তি ব্যবহার জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা দাবি করেন।
তারা বলেন, মিটার নষ্ট হলেও গ্রাহকদের বিকল্প হিসেবে আবারও প্রিপেইড মিটার নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন। অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা ডিপিডিসির দক্ষিণের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর স্মারকলিপি দিতে গেলে কার্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন প্রহরীরা। এতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ফটকের সামনে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে কয়েকজন প্রতিনিধিকে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর তারা বিক্ষোভ মিছিলসহ ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী কামাল হোসেনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে নেতারা প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে এ ধরনের মিটার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত এবং প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।