ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের ঘোষণা দেবেন ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:২৬ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণা করতে যাচ্ছে বলে আভাস দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি সাউথ ক্যারোলাইনার প্রভাবশালী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের পক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ নির্বাচনী সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি বা টেলি-র্যালির মাধ্যমে অংশ নিয়ে তিনি এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। লিন্ডসে গ্রাহাম সাউথ ক্যারোলাইনার দলীয় বাছাই বা মঙ্গলবারের প্রাইমারি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তাঁর এই প্রচারণায় ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন যে, ইরান বর্তমানে চরম মার্কিন চাপের মধ্যে রয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বড় ধরনের সমঝোতায় আসতে চাইছে। ট্রাম্পের ভাষায়, মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে তেহরান এখন আলোচনায় বসতে বাধ্য হচ্ছে এবং তারা একটি খুব ভালো চুক্তি করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। শুধু তাই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সমস্ত শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়েছে এবং তারা নিজেদের কোনো ধরনের পারমাণবিক বা পরমাণু অস্ত্র না রাখার ব্যাপারেও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে প্রস্তুত।

নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, আমরা এই লড়াইয়ে ইতিমধ্যেই জয়ী হচ্ছি। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আপনারা সত্যিই এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন, যখন আমরা ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণা করব।’ তিনি এই বিজয়কে একটি ‘পরিপূর্ণ বা চূড়ান্ত বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন যে, এটি খুব শিগগিরই বা অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটতে যাচ্ছে। ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, এই চূড়ান্ত চুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং তেলের দাম হুড়মুড় করে বা ব্যাপকভাবে কমে যাবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষকরা মনে করছেন, সাউথ ক্যারোলাইনার আসন্ন প্রাইমারি নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই ট্রাম্প এই ধরনের বড় ঘোষণা দিয়েছেন। লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর বিজয় নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের এই ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভাষণে ট্রাম্প বারবার স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাঁর প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ বা ব্লকেড কঠোরভাবে বজায় রেখেছে এবং একটি 'চূড়ান্ত চুক্তি' না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে জারি থাকবে। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসনের দাবি।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘দুই সপ্তাহের’ মধ্যে ইরানের সাথে চলমান সংকটের এমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বা চূড়ান্ত সমাধানের এই ধরনের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের জন্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার এমন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়িত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, গত ৮ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে যে বহুল আলোচিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, তা প্রাথমিকভাবে মাত্র দুই সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল। সেই সময় মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, এই নির্দিষ্ট দুই সপ্তাহের মধ্যে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষর করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই সময়সীমা পার হয়ে দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো চুক্তি বা স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি অত্যন্ত জটিল এবং মাত্র দুই সপ্তাহে ইরানের মতো একটি দেশকে সম্পূর্ণ চুক্তিতে আনা প্রায় অসম্ভব। ট্রাম্পের এবারের এই ‘দুই সপ্তাহের’ সময়সীমা শেষ পর্যন্ত কতটুকু বাস্তব রূপ পায়, নাকি এটিও কেবলই একটি নির্বাচনী কৌশল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর