মধ্যপ্রাচ্যের চরম রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মাঝেই ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির সমস্ত বাণিজ্যিক ও যাত্রীবাহী ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় সচল বা চালু করা হয়েছে। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু হওয়ার পর প্রথম দিককার ফ্লাইট হিসেবে সৌদি আরব থেকে পবিত্র হজ পালন শেষে আসা ইরানি হজযাত্রী বহনকারী বেশ কয়েকটি বিশেষ ফ্লাইট অত্যন্ত নিরাপদ ও সফলভাবে এই বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরের দিকে ইরানের একাধিক স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই ইতিবাচক তথ্যটি বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এই বিমানবন্দরটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।
ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ও বিশ্বস্ত সংবাদ সংস্থা মেহর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, তেহরানের বিখ্যাত ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোম্পানির অপারেশন বিভাগের সম্মানিত উপপ্রধান এই বিমানবন্দর পুনরায় সম্পূর্ণ সচল হওয়ার বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। অপারেশন বিভাগের ওই শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমস্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নিখুঁত ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং পুনর্বিবেচনা করার পরই আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ওঠানামার জন্য রানওয়ে ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। হজযাত্রীদের বহনকারী বিমানগুলো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং তাদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ার কারণে এবং সুরক্ষার স্বার্থে এই বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মূল ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল যখন ইসরায়েলে ইরানের পক্ষ থেকে একযোগে কয়েকশ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। ইরানের এই নজিরবিহীন ও আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় এবং আকাশসীমার সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতকাল রোববার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী আসা এবং এখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের নিয়মিত কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছিল। যার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে ইরানের আকাশপথের যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বহু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা তাদের রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।
হঠাৎ ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করার কারণে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী এবং পবিত্র হজে যাওয়া হাজিরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ট্রানজিটে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করায় এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস পাওয়ায় পুনরায় বিমানবন্দরটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তেহরান প্রশাসন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-এর সরবরাহ করা বিশেষ তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও ইরানের অন্যান্য অঞ্চলের আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। বিমানবন্দর পুনরায় চালু হওয়ার এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ইরানের বিমান বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।