আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার সিনেমা বাজারকে কেন্দ্র করে ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনে ইতিমধ্যেই বেশ শোরগোল ও তুমুল উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ঈদের সিনেমাগুলোর মধ্যে দর্শকদের মাঝে সবচেয়ে বেশি উন্মাদনা ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে গুণী চলচ্চিত্র পরিচালক সাইফ চন্দনের বহুল আলোচিত অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার সিনেমা ‘মালিক’। আর এই বিগ বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমায় নামভূমিকায় বা কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঢাকা সিনেমার জনপ্রিয় ও সুপরিচিত চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। সিনেমাটির মুক্তি ও প্রচারণা উপলক্ষে সম্প্রতি রাজধানীতে এক জমকালো সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অবতীর্ণ হয়ে চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ছবিটিতে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা, পর্দার পেছনের নানা গল্প এবং প্রাপ্তি নিয়ে অত্যন্ত অকপট ও খোলামেলা কথা বলেছেন, যা তাঁর ভক্তদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের চ্যালেঞ্জিং চরিত্র এবং এই সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আরিফিন শুভ বেশ দার্শনিক ও বাস্তবসম্মত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনে যখন যেই অপরচুনিটি বা সুযোগ আসে, সেই সুযোগটার যথাযথ ও সৎ ব্যবহার করাটাই হচ্ছে আসল সময়ের দাবি। আমার অভিনয় ক্যারিয়ারে ঠিক তেমনি একটি দারুণ সুযোগ এসেছিল এই "মালিক" সিনেমার হাত ধরে এবং আমি আমার কাজের প্রতি শতভাগ সৎ থেকে সেই সুযোগটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহর হুকুম যখন হয়েছে, কাজটা ঠিক তখনই সম্পন্ন হয়েছে। জীবনের কোনো সময়ে আসলে সঠিক কিংবা বেঠিক বলে কিছু হয় বলে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় না; সময় তার নিজের নিয়মেই আসে। বাকিটা হলো জীবনের সাথে পরিস্থিতির পারফেক্ট টাইমিং বা সঠিক মেলবন্ধনের একটা দারুণ বিষয়।’
এই সিনেমায় আরিফিন শুভর সাথে জুটি বেঁধে বড় পর্দায় হাজির হয়েছেন গ্ল্যামারাস ও দক্ষ অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। বিশ্ব চলচ্চিত্রের বিশাল বাজেট ও ভারতীয় সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে এই ড্যাশিং নায়ক আরও বলেন, ‘ইনশাল্লাহ আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি থেকে আন্তর্জাতিক মানের এরকম একটি বড় মাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, এটাই আমাদের সিনেমার জন্য অনেক বড় আনন্দের ও গর্বের বিষয়। আর আমি নিজে অত্যন্ত ভাগ্যবশত সেই ঐতিহাসিক প্রজেক্টের লিড ক্যারেক্টার বা প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। ভবিষ্যতে এই কাজের সূত্র ধরে ঢাকাই সিনেমা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, দেখা যাক; সামনে দেখা যাক কী হয়।’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশাল বাজেটের চলচ্চিত্রের সাথে তুলনা করে শুভ যোগ করেন, ‘আমাদের দেশের সিনেমা নিয়ে এই ধরনের কাজ হওয়াটা খুবই আনন্দের বিষয়। কারণ আপনারা অনেকেই বলেন যে ওপারের সিনেমাগুলো ৪০০ কোটি রুপির, ৫০০ কোটি রুপি বা হাজার কোটি রুপির বিশাল বাজেটের ছবি তৈরি করে। তো সেই বড় বাজেটের তুলনায় আমাদের দেশের সীমিত সাধ্যের দর্শক যদি এই ছবির মাধ্যমে কিছুটা দেশের বাইরের ভিন্ন ধারার, ভিন্ন দেশের আধুনিক অ্যাকশনের একটু চমৎকার ফ্লেভার বা স্বাদ নিজেদের দেশের সিনেমাতেই পেয়ে যায়, তবে তাতে ক্ষতি কী? বরং এটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অগ্রগতিরই একটি বড় প্রমাণ।’
সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, ভালোবাসা ও প্রেক্ষাগৃহের করতালিতেই তাঁর কাজের মূল অনুপ্রেরণা লুকিয়ে আছে উল্লেখ করে আরিফিন শুভ শেষভাগে যোগ করেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো হলমুখী দর্শকেরা সিনেমাটি দেখে আনন্দ পেলেই আমাদের সব কষ্ট সার্থক, তাদের সেই নিখাদ আনন্দটাই আমাদের কাছে সবকিছু। আমি শুধু একটা জিনিসই জোর দিয়ে বলব যে, "মালিক" সিনেমাটি এখনো দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে অত্যন্ত সাকসেসফুলি বা সফলতার সাথে চলছে। যারা এখনো এই সিনেমাটি বড় পর্দায় দেখেননি, তারা অবশ্যই অবশ্যই পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে হলে এসে যদি ভরপুর আনন্দ করতে চান, হুল্লোড় ও আনন্দ-উল্লাস করতে চান, নায়কের সংলাপে তালি মারতে চান এবং অ্যাকশন দৃশ্যে উল্লাসে সিটি বাজাইতে চান, তাহলে তারা আজই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে "মালিক" সিনেমাটি উপভোগ করবেন।’
আকাশজমিন /
আরআর