ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি বাতিল করল মার্কিন আদালত


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:০০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পেশায় কর্মরত বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর এসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক এইচ-১বি ভিসার জন্য নির্ধারিত বিতর্কিত ১ লাখ ডলারের আকাশচুম্বী আবেদন ফি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। স্থানীয় সময় সোমবার দেশটির একটি ফেডারেল আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আদালতের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, বিশেষায়িত প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান খাতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মী নিয়োগে বহুল ব্যবহৃত এই ভিসা কর্মসূচিতে একতরফাভাবে এমন বড় ধরনের আর্থিক শর্ত আরোপ করার আইনি বা সাংবিধানিক ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেই।

মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ লিও সোরোকিন তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, ফেডারেল অভিবাসন নীতিতে এ ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনার আইনি একচ্ছত্র ক্ষমতা কেবল মার্কিন কংগ্রেসের রয়েছে। তাঁর আইনি ব্যাখ্যা মতে, ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক আরোপিত এই বিশাল অঙ্কের ফি মূলত একটি পরোক্ষ ‘ট্যাক্স’ বা করের শামিল। আর আমেরিকার আইনপ্রণেতারা নির্বাহী বিভাগ বা দেশের প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে করের মতো বিষয়ে এমন হুট করে বড় পরিবর্তনের কোনো অনুমতি দেননি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কার্যকালে নিয়োগপ্রাপ্ত বিজ্ঞ বিচারক লিও সোরোকিন তাঁর বিস্তারিত ৪২ পৃষ্ঠার রায়ে স্পষ্টভাবে লিখেছেন, এইচ-১বি আবেদনপত্রের ওপর নতুন করে কোনো কর আরোপ করার ক্ষমতা বা অর্পিত আইনি কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের ছিল না। কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে দেশের অভিবাসন নীতিতে কিছু ছোটখাটো প্রশাসনিক পরিবর্তনের সুযোগ দিলেও সংবিধানে কোথাও তাকে নতুন কর আরোপের মতো একচেটিয়া ক্ষমতা দেয়নি।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মূলত এইচ-১বি কর্মসূচির অতিরিক্ত ব্যবহার রোধ এবং স্থানীয় মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার অজুহাত বা যুক্তি দেখিয়ে এই এক লাখ ডলারের বিশাল ফি চালু করেছিলেন। এরপরই গত ডিসেম্বর মাসে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি শক্তিশালী জোট এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে। রায়ে বিচারক সোরোকিন ট্রাম্প প্রশাসনের সেই যুক্তিও পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। বিচারকের মতে, বিদ্যমান অভিবাসন আইনের কোথাও প্রেসিডেন্টকে অভিবাসন খাতে নতুন করে কর বসানোর আইনি অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

সাধারণত এইচ-১বি ভিসা বিশ্বজুড়ে থাকা বিদেশি পেশাজীবীদের আমেরিকায় এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ প্রযুক্তির পেশায় কাজের সুযোগ দেয়, যেগুলোর জন্য বিশেষায়িত কারিগরি দক্ষতা ও গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। আবেদনকারীদের অবশ্যই ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। এই ভিসার প্রাথমিক মেয়াদ সাধারণত তিন বছর হয় এবং পরবর্তীতে শর্তসাপেক্ষে আরও তিন বছরের জন্য নবায়ন বা এক্সটেনশন করা যায়। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদদের মতে, এই দূরদর্শী ভিসা কর্মসূচিটি মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক বাজারে তাদের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে ও ব্যবসা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণে দারুণভাবে সহায়তা করে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই আরও লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। আদালতের এই রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় একটি অভিবাসন ধাক্কা আইনি বাধার মুখে পড়ল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর