ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ইরানে ফের হামলা করলে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:১৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের চরম অশান্ত ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, তেল আবিব যদি আবারও একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ বা উত্তেজনা শুরু করে, তাহলে খুব শিগগিরই তাকে মার্কিন সাহায্য ছাড়াই একা একা এই রক্তক্ষয়ী লড়াই চালিয়ে যেতে হতে পারে। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি ফাঁশ করেছেন। ট্রাম্প জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার সম্ভাব্য মারাত্মক ও আত্মঘাতী পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের নিজস্ব ভাষায়, “আমি নেতানিয়াহুকে সরাসরি বলেছি, তোমাকে এবার অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, অন্যথায় খুব শিগগিরই বিশ্বমঞ্চে ও যুদ্ধক্ষেত্রে তুমি সম্পূর্ণ একা হয়ে যাবে।”

হোয়াইট হাউজ প্রধানের এই বিস্ফোরক মন্তব্যটি এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে সামনে এলো, যখন গত এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। অবশ্য নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই সাময়িকভাবে একে অপরের ওপর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে এবং একই সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উভয় পক্ষকে অবিলম্বে সব ধরনের বিমান হামলা ও গোলাগুলি বন্ধ করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শান্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত কূটনৈতিক আলোচনা অবশ্যই চলতে থাকবে, যদি না কোনো পক্ষের চরম অজ্ঞতা বা কূটনৈতিক নির্বুদ্ধিতা এই শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই গুরুতর পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের পৃথক প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ট্রাম্প ইতিপূর্বে টেলিফোনেও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সংযত থাকার এবং নতুন করে হামলা বন্ধ রাখার তীব্র আহ্বান জানিয়েছিলেন।

মূলত এর আগে গত রবিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর এক ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী বোমা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইরান শুরু থেকেই অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে বলে আসছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের সম্ভাব্য যেকোনো শান্তিচুক্তি আংশিকভাবে লেবানন ও গাজা উপত্যকার সংঘাত বন্ধ হওয়ার ওপর ওতপ্রোতভাবে নির্ভরশীল। ফলে বৈরুত হামলার তীব্র জবাবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই মারাত্মক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প নিজেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেন এবং ইরানের ওপর কোনো ধরনের পাল্টা হামলা না চালানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। তবে ট্রাম্পের সেই অনুরোধ বা নির্দেশ উপেক্ষা করে সোমবার ভোরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানের ভেতরে বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আকস্মিক বিমান হামলা চালায়।

ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর এই হামলায় ইরানের অত্যন্ত সংবেদনশীল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এই উস্কানির জবাবে ইরানও দমে যায়নি; তারা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইসরায়েলের হাইফা শহরে অবস্থিত একটি অনুরূপ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং দুটি প্রধান ইসরায়েলি বিমানঘাঁটিতে একযোগে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় ইরানের পক্ষ থেকে নিক্ষেপ করা অনেকগুলো শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অধিকৃত পশ্চিম তীরের আকাশসীমায় ইসরায়েলি ও মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত বা ধ্বংস করা হয়। ইসরায়েলের এই বেপরোয়া আচরণের কারণেই মূলত ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুকে একঘরে করে দেওয়ার মতো এমন নজিরবিহীন ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকেরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর