ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

কাতার বিশ্বকাপের সেই অনন্য ইতিহাস

৫টি পেনাল্টির রেকর্ড গড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:২৩ পিএম

বিশ্বফুটবলের ইতিহাসের পাতায় কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ ছিল আর্জেন্টিনার জন্য এক অবিস্মরণীয় স্বপ্নপূরণের মঞ্চ। মধ্যপ্রাচ্যের মরুদ্যানে অনুষ্ঠিত সেই ঐতিহাসিক আসরে দীর্ঘ ৩৬ বছরের টানটান প্রতীক্ষা ও আক্ষেপের অবসান ঘটিয়ে চিরকাঙ্ক্ষিত তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এই আসরেই নিজের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র অপূর্ণতা ঘুচিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সোনালী শিরোপা ছুঁয়ে দেখেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টিনার সেই মহাকাব্যিক শিরোপা জয়ের রাজকীয় পথে তারা মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পরিসংখ্যানেও গড়েছিল এক অনন্য ও অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড। পুরো টুর্নামেন্টে নকআউট পর্বসহ আর্জেন্টিনা সব মিলিয়ে পেনাল্টি পেয়েছিল পাঁচটি, যা ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এক আসরে কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে সর্বোচ্চ পেনাল্টি পাওয়ার এক নতুন ও একক রেকর্ড। এর আগে একক কোনো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ চারটি করে পেনাল্টি পাওয়ার যৌথ রেকর্ড ছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে পর্তুগাল এবং ১৯৭৮ সালের আসরে নেদারল্যান্ডসের। সেই বহুল প্রাচীন রেকর্ড ভেঙে কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আলবিসেলেস্তেরা।

কাতার বিশ্বকাপের সেই আসরে আর্জেন্টিনার পাওয়া পাঁচটি পেনাল্টির সবকটিই একক শট নেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দলের মহাতারকা ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গ্রুপ পর্ব ও নকআউট পর্ব মিলিয়ে সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া এবং ফাইনালের মহরণ ফ্রান্সের বিপক্ষে পাওয়া চারটি পেনাল্টি থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় নিখুঁত শটে গোল করতে সক্ষম হন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে শুধু পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পাওয়া একটি পেনাল্টি শট মিস করেছিলেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর, যা রুখে দিয়েছিলেন পোলিশ গোলরক্ষক। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের অতি গুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বে এই পেনাল্টিগুলো আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে এক মস্ত বড় ও প্রধান ট্রাম্পকার্ড বা সহায়ক উপাদান হয়ে উঠেছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে ডাচ তথা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, সেমিফাইনালের মহারণে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এবং ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সের বিপক্ষে পাওয়া বিতর্কিত ও নাটকীয় পেনাল্টিগুলো ম্যাচের পুরো গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দিতে এবং আর্জেন্টিনাকে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধায় এগিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল।

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ শতবর্ষের ইতিহাসে অনেক বড় বড় দলই বিভিন্ন সময়ে মাঠের রেফারিদের কাছ থেকে পেনাল্টির সুবিধা বা উপহার পেয়েছে, কিন্তু কোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলই এর আগে এক আসরে পাঁচ-পাঁচবার স্পট কিকের সুবর্ণ সুযোগ নিজেদের ঝুলিতে পুরতে পারেনি। সেই অনন্য ও দুর্লভ রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা শুধু বিশ্বজয়ের ট্রফিই ঘরে তোলেনি, বরং বিশ্বকাপের শতাব্দীর সেরা পরিসংখ্যানের পাতাতেও নিজেদের নাম চিরস্থায়ীভাবে লিখিয়েছে এক নতুন আঙ্গিকে। অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার এই রূপকথার মতো সাফল্যের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি ছিল ম্যাচের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্নায়ুচাপের মুহূর্তগুলোকে শতভাগ কাজে লাগানোর অভাবনীয় ক্ষমতা। আর সেই শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তগুলোর এক বিশাল ও বড় অংশই এসেছে এই পেনাল্টির স্পট কিক থেকে। তাই ২০২২ বিশ্বকাপের সেই রোমাঞ্চকর গল্প বলতে গেলে শুধু মেসির পায়ের জাদু, গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সেই দুর্দান্ত সব সেভ কিংবা বাকি ফুটবলারদের জীবনপণ লড়াইয়ের কথাই আসবে না, বরং মনে রাখতে হবে এই অদ্বিতীয় পরিসংখ্যানও—পাঁচটি পেনাল্টির রেকর্ড গড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের বিশ্বজয়কে চিরস্মরণীয় করে তুলেছিল আর্জেন্টিনা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর