পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, সহিংসতায় এ পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি অঞ্চলটিতে বিদ্যুৎ বিল ও খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি সহ বিভিন্ন দাবিতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ করে আসছিল ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি) নামে একটি প্রভাবশালী সামাজিক সংগঠন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অংশ হিসেবে পাকিস্তান সরকার আন্দোলন পরিচালনাকারী এই সংগঠনটিকে হঠাৎ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের পর অঞ্চলটির রাওলাকোটে নতুন করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। এই বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী প্রাণ হারান। ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে গত রবিবার রাওয়ালকোট শহরে চরম সহিংসতা ও তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাওয়ালকোট প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সরদার ওয়াহিদ খান আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যবসায়ীর মরদেহ রাওয়ালকোটের একটি হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওই সময় হাসপাতালের বাইরে জেএএসি-এর বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও সাধারণ মানুষ জড়ো হন।
প্রশাসন কর্মকর্তার তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনী হাসপাতালের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পুনরায় সংঘর্ষ বাধে। তবে প্রশাসনের দাবি, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে মারণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযান চলাকালে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
হতাহতের সংখ্যা নিয়ে অবশ্য প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তথ্যের ভিন্নতা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৭০ জন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও জেএএসি সমর্থকরা সরকারি এই পরিসংখ্যান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, পুলিশের গুলিতে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা দুই শতাধিক পার হয়েছে।
বর্তমানে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি চরম থমথমে ও সংঘাতময় রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তান প্রশাসন পুরো অঞ্চলে অতিরিক্ত আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে তথ্য সরবরাহ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের বড় জমায়েত ও সভার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং রক্তপাত এড়াতে উভয় পক্ষকে অবিলম্বে আলোচনায় বসে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে।