ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ডাকাতির পর মা-মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন, স্কুলছাত্রী আইসিইউতে


  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ জুন, ২০২৬ সময় : ৮:৪৭ এএম

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলায় এক নৃশংস ও বর্বরোচিত অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে একটি বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি শেষে এক নারী এবং তাঁর দশম শ্রেণি পড়ুয়া স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে দলবদ্ধভাবে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই নির্মম ঘটনার শিকার হওয়া স্কুলছাত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। লোমহর্ষক এই ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মাতামুহুরী উপজেলার এক দুর্গম এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। গভীর রাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সুসংগঠিত ও সশস্ত্র ডাকাতদল ওই বাড়ির জানালার লোহার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর ডাকাতরা আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা এবং মূল্যবান স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে। কিন্তু তাদের তাণ্ডব এখানেই শেষ হয়নি; মালামাল লুটের একপর্যায়ে ডাকাতদল ওই বাড়িতে অবস্থানরত মা এবং তাঁর কিশোরী মেয়েকে আটকে রেখে দলবদ্ধভাবে পাশবিক নির্যাতন চালায়। নির্মম এই অপরাধ সংঘটিত করার পর ডাকাতেরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে স্বজনেরা এগিয়ে আসেন এবং রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মা-মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে দুজনের শারীরিক অবস্থার অবণতি হলে উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা দ্রুত তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। স্কুলছাত্রীর এক মামা জানান, তাঁর বোন ও স্কুলপড়ুয়া ভাগ্নির ওপর ডাকাতদল অমানুষিক ও পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা কিশোরী ভাগ্নির অবস্থা আশঙ্কাজনক ঘোষণা করেছেন এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এই লোমহর্ষক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপর হয়ে ওঠে। চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশসহ থানা পুলিশ এবং মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এই পাশবিক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলে পুরো এলাকা কর্ডন বা ঘিরে ফেলে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত এলাকায় এক যৌথ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় জনতার সক্রিয় সহায়তায় এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

আটকরা হলেন—মাতামুহুরী উপজেলার ডলুনিঘোনা এলাকার রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩) ও তাঁর ভাই কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইত্যা (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), সাহারবিল ইউনিয়নের কদ্দাছড়া এলাকার মেহেদী হাসান (২৪) এবং কোরালখালী এলাকার মোহাম্মদ তারেক (২৬)। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি জড়িত অন্য অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর