ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা

, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ধ্বংস

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা


  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ জুন, ২০২৬ সময় : ৯:২৬ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা আরও চরম আকার ধারণ করেছে। এবার জর্ডানের একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মহাকাশ শাখা দাবি করেছে, মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা ওই ঘাঁটিতে তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফল ও নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বুধবার (১০ জুন) এই চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইআরজিসি তাদের এক বিশেষ বিবৃতিতে দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উক্ত মার্কিন ঘাঁটির প্রধান চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণটি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী হামলার জবাবে নেওয়া তাদের এক বৃহত্তর পাল্টা সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত ধাপ।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা আমেরিকার একটি ‘এমকিউ-৯’ অত্যাধুনিক ড্রোনও সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে আইআরজিসি। বিবৃতির শেষাংশে তারা মার্কিন প্রশাসনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছে, ওয়াশিংটনের পরবর্তী যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তাদের সশস্ত্র বাহিনী আরও ‘বিধ্বংসী ও চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এর বাইরে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যকার বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত ও বিপজ্জনক রূপ নেয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার এককভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

এদিকে ইরানের এই ব্যাপক ও আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েতের সেনাবাহিনী এক জরুরি বার্তা প্রকাশ করেছে। কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘আকাশপথে আসা শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি বিশেষ পোস্টে কুয়েতি সেনাবাহিনী দেশের সাধারণ বাসিন্দাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত সকল সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে।

কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আরও অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন যুদ্ধের এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে এবং সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি সূত্রের ওপরই পূর্ণ নির্ভর করেন। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের এই সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং কুয়েতের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, দুই পরাশক্তির এই মুখোমুখি অবস্থান যেকোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর