সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জিয়ানগর (বান্দাইল) গ্রামে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে রাজিব হোসেন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী সৌরোপা (৩৯) বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) সিংগাইর থানায় মামলাটি করেন।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দত্তখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা রাজিব হোসেন গত ৭ জুন রাতে বাড়ি থেকে চা পান করার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, সিংগাইর উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের একটি বাড়িতে রাজিবকে চোর সন্দেহে আটক করা হয়েছে। পরে তারা তার মৃত্যুর খবর পান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ৮ জুন রাত আনুমানিক ২টার দিকে জিয়ানগর এলাকার একদল লোক রাজিবকে আটক করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
তবে ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। তাদের দাবি, ওই রাতে জিয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা হাকিম আলীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। রাজিব ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় গৃহকর্তা বাধা দিলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং তিনি আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, রাজিবকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে না দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শামিল। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, চুরির অভিযোগে আটক হওয়ার পর উত্তেজিত জনতার মারধরের শিকার হন রাজিব। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, হত্যার অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।