মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘর ওয়াপসি’ বা কংগ্রেসে ফেরার গুঞ্জন এখন দিল্লির রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) গঠন করেছিলেন মমতা। দীর্ঘ তিন দশক পর নিজের তৈরি করা দলটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি সত্যিই তার টিএমসিকে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত করতে যাচ্ছেন?
পশ্চিমবঙ্গে দলের বিধায়কদের প্রকাশ্য বিদ্রোহ, দলীয় কাউন্সিলর ও স্থানীয় নেতাদের ওপর হামলা এবং সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক গভীর সংকটে ফেলেছে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় টিএমসি মাত্র ৮০টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, ১০০ জনেরও বেশি কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক মমতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আলাদা অবস্থান নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লিতে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও শীর্ষ কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা রাজনৈতিক মহলে এই জল্পনা আরও জোরালো করেছে।
অনেকের মতে, বিদ্রোহীদের হাত থেকে দল বাঁচাতে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়া মমতার সামনে সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে। শোনা যাচ্ছে, বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই একীভূতকরণের বিরোধিতা করেছেন, তবুও দিল্লিতে মমতার অস্বাভাবিক তৎপরতা ও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিবসেনা বা এনসিপির মতো দলগুলো যেভাবে বিজেপির চাপে কোণঠাসা হয়ে মূল ধারার রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে, তৃণমূলও হয়তো সেই একই পথ অনুসরণ করতে চলেছে। তবে চিরকালের রাজপথের লড়াকু সৈনিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত তার নিজের হাতে গড়া দল বিলীন করবেন কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে। কারণ, তৃণমূল কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি মমতার দীর্ঘ বছরের সংগ্রামের প্রতীক।
বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে চতুর্মুখী সংকটে জর্জরিত, তাতে তার সামনে বিকল্প পথ খুব সীমিত। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে টিএমসিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলেছে। এমতাবস্থায় কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার অর্থ হতে পারে একটি শক্তিশালী জোটের অংশ হওয়া, যা ভবিষ্যতে বিজেপি বিরোধী রাজনীতিতে তাদের নতুন করে বাঁচার রসদ জোগাবে। চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এটি এখন কেবলই গুঞ্জন। তবে রাজনীতির এই সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।