মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরে টাকা-পয়সা লেনদেনের জেরে সৃষ্ট গভীর বিরোধের জেরে আরিফ বেপারী (৩০) নামের এক যুবককে অত্যন্ত নির্মম ও বর্বরোচিতভাবে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার এক রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (১৪ জুন) সকালের দিকে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত পূর্ব শিলমন্দি জসিমনগর এলাকায় ভুক্তভোগী যুবকের নিজের বসতবাড়ির ঠিক পাশে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের শিকার নিহত আরিফ বেপারী পূর্ব শিলমান্দি জসীমনগর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং মতিন বেপারীর ছেলে। তিনি ব্যক্তিগত পেশায় একজন কসাই ছিলেন এবং তার আপন ছোট ভাই আকাশ বেপারীও একই এলাকায় মাংস বিক্রির পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। শান্ত ও সাধারণ এই কসাই যুবকের এমন পৈশাচিক খুনের ঘটনায় পুরো জসিমনগর এলাকা জুড়ে চরম থমথমে পরিস্থিতি ও প্রতিবেশীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালের দিকে পূর্ব শিলমন্দি এলাকার একটি নির্জন পরিত্যক্ত জমিতে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় পথচারীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হন এবং স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। ঘটনার খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, মাংসের ব্যবসা ও টাকা লেনদেন নিয়ে আরিফের ছোট ভাই আকাশের সঙ্গে স্থানীয় নুর মোহাম্মদ নামের আরেক কসাইয়ের দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ ও বৈরিতা চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে গত কাল শনিবার সকালে স্থানীয় মুন্সীরহাট বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, মূল প্রতিপক্ষ নুর মোহাম্মদ ও তার লোকজন আকাশের ওপর হামলা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তাকে না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে ও সুকৌশলে বড় ভাই আরিফ বেপারীকে গভীর রাতে একা পেয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ কামরান হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আজ ভোরে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং জসীমনগর গ্রামের বাসিন্দা কসাই আরিফ নামের এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করি। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ধারালো অস্ত্রের গভীর ও মারাত্মক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সুরতহাল দেখে প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ ও সুনির্দিষ্টভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে মাত্র প্রায় আড়াইশ গজ দূরেই নিহতের মূল বসতবাড়ি অবস্থিত, যেখানে তিনি সম্পূর্ণ একাই বসবাস করতেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, এই চাঞ্চল্যকর ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা সরাসরি জড়িত এবং এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উদ্ঘাটন করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।