দেশের প্রান্তিক ও জেলা পর্যায়ের সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সংকটাপন্ন রোগীদের আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। আজ রোববার (১৪ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল থেকে একযোগে দেশের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ জেলার সরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ (ICU) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এই বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত ছিল আরও ৯টি জেলা সদর হাসপাতাল। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী এই স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। এই উদ্বোধনের ফলে এখন থেকে জেলা পর্যায় থেকেই সংকটাপন্ন রোগীরা আধুনিক আইসিইউ সেবা পাবেন, যার ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি রোগীদের আর রাজধানী ঢাকামুখী হতে হবে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতে আমূল ও বড় ধরনের পরিবর্তন এনে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়ার মেগা পরিকল্পনা করছে বর্তমান সরকার। এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারা দেশে অত্যাধুনিক ২০টি নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে বিশেষ করে নারীদের উন্নত চিকিৎসা ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে শুধু নারীদের জন্যই দুটি দেড় হাজার শয্যার বিশাল বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। আর দেশের বাকি ১৮টি হাসপাতাল হবে ১ হাজার শয্যা বিশিষ্ট সাধারণ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এসব হাসপাতালে সুলভে উন্নত কিডনি ডায়ালাইসিস, নারীদের স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার চিকিৎসা, জটিল পঙ্গুত্ব পুনর্বাসন, নিরাপদ মাতৃসেবা এবং সাধারণ ও অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাসেবার আন্তর্জাতিক মানের সব সুবিধা বিদ্যমান থাকবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি হাসপাতালে অত্যাধুনিক ৫টি করে নতুন অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে এবং সারা দেশে জরুরি ও সংকটাপন্ন রোগী দ্রুত পরিবহনের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বহরে ৪টি আধুনিক হেলিকপ্টার সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্নে পৌঁছে দিতে জরুরি ভিত্তিতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মহাপরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার মধ্যে সিংহভাগ তথা ৮০ হাজার কর্মীই হবেন নারী। এই নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও সচেতনতা প্রদান করবেন। সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো চরম অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরীর অত্যন্ত সুশৃঙ্খল সভাপতিত্বে এই ঐতিহাসিক আইসিইউ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব। এছাড়া চিকিৎসকদের শীর্ষ পর্যায় ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান। উপস্থিত সকল অংশীজন ও সুধী সমাজ সরকারের এই যুগান্তকারী স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণ ও নতুন নিয়োগের উদ্যোগকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানিয়েছেন।