দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) সেবা চালু হয়েছে। রবিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আইসিইউ সেবার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-০২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া, সিভিল সার্জন ডা. শরিফুল আবেদীন কমল, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অখিল সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, জেলার প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যার আধুনিক জেলা হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। একই সময়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিইউসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়। রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের নভেম্বরে আইসিইউ ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও অন্যান্য জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
ফলে গুরুতর অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকা কিংবা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হতো। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় বহন করতে হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন মহল থেকে আইসিইউ ইউনিট চালুর দাবি জানানো হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ আইসিইউ সেবা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে।
অবশেষে সাড়ে তিন বছর পর আইসিইউ সেবা চালু হওয়ায় জেলার রোগী ও স্বজনদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, এখন থেকে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হবে না এবং স্থানীয়ভাবেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব হবে।
মাদারীপুর-০২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য এই আইসিইউ সেবা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে অন্যান্য রোগীদের জন্যও এই সেবা উন্মুক্ত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল থাকলেও বর্তমানে ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং জেলার সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইসিইউ ইউনিট চালু হওয়ায় জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং জরুরি ও সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।