দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন করেছে ইরান। এই যুগান্তকারী চুক্তির ফলে আজ সোমবার রাত থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে বা যুদ্ধক্ষেত্রে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে তেহরান। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, এই সমঝোতা চুক্তির আওতায় লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রণক্ষেত্রে চলমান সব ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও আজ রাত থেকেই পর্যায়ক্রমে শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিবেশ দেশ ভারতে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশন তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদির এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যটি হুবহু প্রকাশ করে। সেখানে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের এই দ্বিপক্ষীয় ঘোষণা আজ রাত থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি আরও জানান, এই যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতায় একটি পূর্ণাঙ্গ, টেকসই ও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন করে আরেকটি বড় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে আলোচনার টেবিলে কোনো পক্ষ যদি এই শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়, তবে ইরান নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
এর আগে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনে এক আকস্মিক আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সফল দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর জারি করা কঠোর নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই আকস্মিক চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে কট্টর মিত্র ইসরায়েলের ভেতরে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দেশটির উচ্চপদস্থ কয়েকজন সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তা মনে করছেন, এই সংক্ষিপ্ত সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা, তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হ্রাস করা কিংবা আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লাগাম টেনে ধরার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘোষিত মূল লক্ষ্যগুলো মোটেও পূরণ হয়নি।