ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

আওয়ামী লীগের জন্মের পর থেকেও তারা গণতন্ত্রের সাথে চলেনি: মির্জা ফখরুল


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:১২ পিএম

বিএনপি মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “ঐতিহাসিকভাবে একটা জিনিস আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি, তা হলো আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনোই একসঙ্গে যায়নি। আগেও যায়নি, অর্থাৎ আওয়ামী লীগের জন্মের পর থেকে দলটির কোনো ইতিহাসেই গণতন্ত্রের সহাবস্থান দেখা যায়নি।”

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে 'সংবাদপত্রের কালো দিবস' উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল গণমাধ্যমের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “আমরা যখনই স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছি, তখন গণমাধ্যম কর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে ছুটে গেছেন। তারা সেই নির্মমতার চিত্র কাভার করে জনগণের সামনে সত্যটা তুলে ধরেছেন।” নিজেকে একজন সম্পূর্ণ উদার গণতন্ত্রবাদী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে সমাজ বা রাজনীতিতে বিভাজনের নীতিতে মোটেও বিশ্বাস করি না।” এ সময় তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো মত দেন।

বিএনপিকে একটি আপাদমস্তক গণতান্ত্রিক ও উদারপন্থি রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য বিএনপিই ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।” তিনি বলেন, 'সংবাদপত্রের কালো দিবস' দীর্ঘদিন ধরেই দেশের সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি আন্দোলন এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সংগ্রামে সাংবাদিকরা সবসময় সম্মুখসারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক জীবনের কঠিন ও অন্ধকার সময়গুলোতে সাংবাদিকরা শুধু সংবাদ পরিবেশনই করেননি, বরং অনেক ক্ষেত্রে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন সাহস জুগিয়েছেন।” দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও রাজপথের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে এখন এমন একটি মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও আন্তরিক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে গণমাধ্যম শিল্পের বর্তমান কিছু সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখনও দেশের অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক বেকার অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার, সংবাদমাধ্যমের মালিক পক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।” অতীতে অন্যায়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন নতুন প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারবার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন এবং এ লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ও অব্যাহত রেখেছেন।” তবে দেশে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিভিন্ন অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করার একটি সুগভীর চেষ্টা চলছে। এসব অপতৎপরতা রুখে দিতে দেশের সচেতন নাগরিক ও সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

আলোচনা সভায় বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম। এ সময় দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক নেতাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর